চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৩ বিদেশী জাহাজে জলদস্যুতার অভিযোগ

চেম্বার সভাপতি পত্রে উল্লেখ করেন, গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। এতে বিদেশী জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দীর্ঘদিন দস্যুতা শুন্যের কোটায় থাকলেও হঠাৎ করে বিদেশীবাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার অভিযোগ ওঠছে। গত এক মাসের ব্যবধানে বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশীবাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে বিদেশীজাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে যেমনি গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের বন্দর নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে নৌ-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের জাহাজে জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে এক জরুরি পত্র দিয়েছেন চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

চেম্বার সভাপতি পত্রে উল্লেখ করেন, গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। এতে বিদেশীজাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমান সরকারের নানামূখী বাস্তব উদ্যোগ নেয়ার ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপের কারণে একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দর এতদঞ্চলের অন্যতম রিজিওনাল বিনিয়োগ ও ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে। কিন্তু, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জলদস্যুতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হবে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু শিপিং শিল্পের জন্য নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব ঘটনার কারণে বিদেশীশিপিং অপারেটরদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়বে যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বীমা ব্যয়, জাহাজ পরিচালনায় বিলম্ব এবং বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারে।

তিনি বলেন, যেখানে সরকার ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাড়ানো এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে এ ধরণের ঘটনা সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

আমিরুল হক চিঠিতে আরো উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা-রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া এর (রিক্যাপ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো প্রকার দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি।

সংস্থাটির দেয়া তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের জলসীমায় যখন চুরি ও দস্যুতার ঘটনা চলমান, তখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতা এবং জিরো টলারেন্স নীতির কারণে এই সাফল্য এসেছে। কিন্তু, সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো রিক্যাপ প্রতিবেদনে প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম নষ্ট হতে পারে।

পত্রে বলা হয়, দেশে বিনিয়োগবান্ধব ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ট্রেড পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে কোস্টগার্ডের টহল আরো জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধিসহ অপরাধী চক্রের সহযোগী ও চোরাইকৃত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর প্রতি চেম্বার সভাপতি আহ্বান জানান।

এদিকে, বহির্নোঙরে জলদস্যুতার বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পরে জানানোর কথা বলেন।