ময়মনসিংহ রেলওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ, বাড়ছে যাত্রীসেবার সম্ভাবনা

ময়মনসিংহ জংশন দিয়ে প্রতিদিন ১০ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনসহ বহু যাত্রী চলাচল করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকিট ব্যবস্থাপনা, স্টেশন নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবা খাতে আধুনিকায়ন করা গেলে এ স্টেশনটি দেশের অন্যতম মডেল স্টেশনে পরিণত হতে পারে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহের ম্যাপ
ময়মনসিংহের ম্যাপ |ফাইল ছবি

ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা কাটিয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, যথাযথ তদারকি ও সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা গেলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ময়মনসিংহ জংশন দিয়ে প্রতিদিন ১০ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনসহ বহু যাত্রী চলাচল করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকিট ব্যবস্থাপনা, স্টেশন নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবা খাতে আধুনিকায়ন করা গেলে এ স্টেশনটি দেশের অন্যতম মডেল স্টেশনে পরিণত হতে পারে।

স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহল জানিয়েছেন, স্ট্যান্ডিং টিকিট ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, অনলাইন টিকিটিং জোরদার এবং ভিআইপি কোটার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। একইসাথে যাত্রীদের ভোগান্তিও কমবে।

স্টেশনের প্রবেশপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার, প্ল্যাটফর্মে অবৈধ হকার উচ্ছেদ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ইতোমধ্যে নজরদারি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (কমার্শিয়াল) মো: শাহীনুর ইসলাম ময়মনসিংহ অঞ্চলে যোগদানের পর আগের তুলনায় বিভিন্ন অনিয়ম অনেকাংশে কমে এসেছে এবং ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে রেল ব্যবস্থাপনায়। তার তত্ত্বাবধানে সেবার মানোন্নয়ন ও কার্যক্রমে গতি আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানা যায়।

মো: শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা, স্টেশনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মচারী দাবি করেন, ময়মনসিহ স্টেশন ব্যবস্থাপনায় কিছু অভিযোগ রয়েছে। স্টেশন সুপার আবদুল্লাহ আল হারুনের অধীনে পরিচালনাগত কিছু দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে ময়মনসিংহ স্টেশনের মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, তদারকির ঘাটতি ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের সুযোগে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় থাকার সুযোগ পাচ্ছে এবং কিছু অসাধু কর্মচারী তাদের কাজের প্রতি উদাসীনতার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন সুপার আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘স্টেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে ট্রেনের ওয়াশরুমে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা, খাবার বগির সেবার মান উন্নয়ন এবং নামাজের বগির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, অনিয়ম রোধে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানায়, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন ও রাজস্ব বৃদ্ধি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক রেলসেবা নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন খুব দ্রুতই একটি সুশৃঙ্খল, যাত্রীবান্ধব ও রাজস্বসমৃদ্ধ স্টেশনে রূপ নিতে পারে।