রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য-পাবনা দারুল আমান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেছেন, ‘শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশই একটি আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আর এটি বাস্তবায়ন সম্ভব মাদরাসা শিক্ষার মাধ্যমে।’
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে পাবনা দারুল আমান ট্রাস্ট পরিচালিত পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বার্ষিক অভিভাবক সমাবেশ, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় নয়, সামগ্রিক মানবিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকদের আরো সচেতন ও সম্পৃক্ত হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমাজে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে উঠলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও জাতির জন্য সম্পদে পরিণত হবে।’
মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফ ও সহকারী শিক্ষক ফয়সাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো: আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পাবনা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন, দারুল আমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি নেছার আহমেদ নান্নু, আশরাফুল আলম হেলাল, ভাইস-প্রিন্সিপাল আব্দুল লতিফ, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ খান ও এনামুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষা আজ আর বিচ্ছিন্ন কোনো ধারায় নেই। সরকার মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’
পাবনা-১ আসনের প্রার্থী কে এম হেসাব উদ্দিন বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিকল্প নেই।’
দারুল আমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি নেসার আহমেদ নান্নু বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী সংস্কৃতির সমন্বয় শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।’
সভাপতি মাওলানা আব্দুস সামাদ বলেন, ‘মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটি আরো এগিয়ে যাবে।’
প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিভাবক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে আমিরুল ইসলাম পান্না, রবিউল ইসলাম বাদশা, মাওলানা আব্দুর রউফ, আবু হানিফ, মাওলানা মোকসেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার আব্দুস সাত্তারসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি, মাদরাসার শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।



