আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ময়মনসিংহে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে বিএনপির প্রার্থী ডা: মাহবুবুর রহমান লিটনসহ মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চারটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুর রহমান।
আয়কর রিটার্নে সম্পদের তথ্য না থাকা, হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকা এবং ভোটের সমর্থন প্রয়োজনীয়তার ঘাটতি এমন নানা কারণেই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে যাচাইবাছাইয়ে আয়কর রিটার্ন সম্পদের তথ্য না দেয়ায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হামিদুল ইসলাম, হলফনামায় সম্পদের বিবরণী না থাকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির লিয়াকত আলী ও দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর মিল না থাকা ও আয়কর রিটার্ন অসম্পূর্ণ থাকায় এবি পার্টির রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে এবি পার্টির রফিকুল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের নূরে আলম সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসন থেকে নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে যাচাইবাছাইয়ে হলফনামায় তথ্য গোপন ও মামলার বিষয় উল্লেখ না করার কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা: মাহবুবুর রহমান, হলফনামা অসম্পূর্ণ এবং এক শতাংশ ভোট সমর্থন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত, হলফনামা অসম্পূর্ণ ও মামলার তথ্য না দেয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কদ্দুস, এক শতাংশ ভোট সমর্থন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, খেলাফত মসলিসের প্রার্থী মো: নজরুল ইসলাম ও আবুল মুনসুরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এদিকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তিনটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ারসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় সব মিলিয়ে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিপত্র ৭-এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে, অনেক আগে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার তথ্য দিতে না পারলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে না। অত্যন্ত ঠুনকো ও অযৌক্তিক কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী কার্যক্রমকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা জানিয়েছেন, তারা পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রার্থীদের হলফনামার পাশাপাশি পুলিশের একটি প্রতিবেদন থাকে। যাছাই-বাছাইয়ের সময় জেলা পুলিশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। হলফনামার তথ্যের সাথে পুলিশ প্রতিবেদনের অমিল থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।’



