কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট, প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে ফিলিং স্টেশনগুলো

চলমান সঙ্কটে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরে ঘুরে চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করে এক শ’ টাকার পেট্রল পাওয়া যায়।

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Kurigram
জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট,  বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ
জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট, বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কটে সকল প্রকার যানবাহন চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দুর্ভোগে পড়েছে পরিবহন ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে সরবরাহকৃত জ্বালানি দিয়ে চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে ফিলিং স্টেশনসহ বিক্রয় পয়েন্টগুলো।

জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মিত সরবরাহের কারণে জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের বেশিরভাগে তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিকরা।

জানা যায়, কুড়িগ্রামে কয়েকটি জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেমন— পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার ২০টি পেট্রলপাম্পে দৈনিক চার লাখ লিটারের বিপরীতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৫০ হাজার লিটারের কাছাকাছি সরবরাহ করছে। অন্যদিকে ঈদের ছুটিতে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকার কারণে সঙ্কটের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে।

কুড়িগ্রামের খলিলগঞ্জের এসএস ফিলিং স্টেশনের পরিচালক জামান কাজল বলেন, জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের দৈনিক চাহিদার চারভাগের একভাগও পূরণ হচ্ছে না। এ কারণে জ্বালানি সঙ্কট দূর হচ্ছে না। প্রতিদিনই ক্রেতাদের সাথে পাম্পগুলোতে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

জ্বালানি তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে সকাল থেকে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০০ টাকার বেশি পেট্রল দেয়া হচ্ছে না। তবুও বেশিরভাগ স্টেশনে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

মোটরসাইকেল চালক এরশাদুল ইসলাম, জামান মাস্টারসহ অনেকেই বলেন, চলমান সঙ্কটে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরে ঘুরে চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করে এক শ’ টাকার পেট্রল পাওয়া যায়।

কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সীমিত পরিসরে কিছু সময়ের জন্য পেট্রল ও ডিজেল বিক্রি চালু চালু রাখছে আবার বন্ধ করছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যানবাহন ব্যবসায়ীর।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, আমি বিষয়টির ওপর খেয়াল রাখছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন নিয়মিত পরিদর্শন করছে। জ্বালানি সঙ্কট দূর করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।