পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেলপথ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: নুরুল হক নুর।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসান, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জামিল আক্তার লিমন প্রমুখ।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘রাবনাবাদ সেতু নির্মাণ হলে জনভোগান্তি লাঘব হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণের যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করা, এখানকার অর্থনীতিকে প্রাণচাঞ্চল্য করা। কর্মজীবী মানুষ যাতে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে সে ব্যবস্থা করা। সেতুটি রাজধানীসহ সারা দেশের সাথে এ অঞ্চলের মানুষের সড়ক পথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করবে।’
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: নুরুল হক নুর বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নির্বাচিত সরকারের দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা, জনকল্যাণ ও জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠার দ্বায়িত্ব রয়েছে। সেই জায়গা থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা জনদুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছি ‘
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সেতুর সাথে বুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া ৭০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক সংযুক্ত রয়েছে। রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৮৮২.৮১ মিটার এবং প্রস্ত ১০.২৫ মিটার। সেতুটিতে মোট ১৯টি স্প্যান ও ২০টি পিয়ার থাকবে। এর মধ্যে ১৮টি স্প্যান ৪২.৬৮ মিটার পিসি গার্ডার এবং নদীতে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে একটি ১০০ মিটার স্টিল বাউ ট্রাস স্প্যান নির্মাণ করা হবে। সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স থাকবে ১৮.৩০ মিটার এবং নির্মাণে মোট ২১৪টি পাইল ব্যবহার করা হবে।
পাশাপাশি সেতুর দুই পাশে প্রায় ১.৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে হরিদেবপুর প্রান্তে প্রায় ৫০০ মিটার এবং গলাচিপা প্রান্তে প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক থাকবে। নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে এক হাজার ৬০০ মিটার।
প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৭। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি চার লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে যৌথভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা এবং ওহিদুজ্জামান চৌধুরী (এমএনও) জেডি।



