শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা

সাক্ষী না দিয়েও রেকর্ড বইয়ে সাক্ষ্য উল্লেখের অভিযোগ

রংপুরে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সশরীরে ট্রাইবুনালে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষী না দিয়েও রেকর্ড বইয়ে স্বাক্ষ্য উল্লেখ করার অভিযোগ এনেছেন মামলার স্বাক্ষী রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
সাক্ষী না দিয়েও রেকর্ড বইয়ে সাক্ষ্য উল্লেখের অভিযোগ
সাক্ষী না দিয়েও রেকর্ড বইয়ে সাক্ষ্য উল্লেখের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

রংপুরে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সশরীরে ট্রাইবুনালে উপস্থিত হয়ে সাক্ষী না দিয়েও রেকর্ড বইয়ে সাক্ষ্য উল্লেখ করার অভিযোগ এনেছেন মামলার সাক্ষী রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সোহাগ অভিযোগ করেন, তাকে সাক্ষ্য নেয়ার জন্য ডাকা হবে সে জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। কিছুদিন আগে মামলাটির রায়ের বিষয়ে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারসহ তাদের আরমান নামে একজন সাক্ষী ট্রাইবুনালে যান। সেখানে গিয়ে মামলার সাক্ষী যাদের সাক্ষ্য নেয়া হয়নি তাদের বিষয়ে সাক্ষ্য নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ট্রাইবুনাল থেকে জানানো হয়, (তারা বলেন) তারা সাক্ষ্য নেয়া ছাড়াই সাক্ষ্য গ্রহণের প্যাটার্ন সাজিয়েছেন। গত ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও তার সাক্ষ্য নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো আমি আন্দোলনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবু সাঈদ ভাইয়ের সাথে ছিলাম। পরবর্তীতে মামলার শুরু থেকে তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথেও ছিলাম। আমার সাক্ষ্য না নেয়া হলে কিভাবে তদন্ত প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ হলো। এটা কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা একটা প্রশ্ন।’

শাহরিয়ারের দাবি, তিনি আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কখনো লিখিত বা মৌখিকভাবে কোথাও সাক্ষ্য দেননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে তার নামে একটি সাক্ষ্য উল্লেখিত আছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

সাক্ষ্যটি তার সাক্ষ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

শাহরিয়ার বলেন, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নামে কিছু অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত খতিয়ে না দেখেই নতুন চিফ প্রসিকিউর দায়িত্ব নেয়ার পরে একবার হলেও রিভিউ করলে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ থাকতো না। আমি আশঙ্কা করছি যে এ রিভিউটি না হলে এটা নানান পক্ষ দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। রায় পেছানোর বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না। আমি প্রক্রিয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

শাহরিয়ার সোহাগ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ২ নং সাক্ষী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার বিভাগের শিক্ষার্থী।

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর আন্দোলন দানা বেঁধে উঠে। পরে ৫ আগস্ট পালিয়ে ভারতে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে এ ঘটনায় ট্রাইবুনাল-২ এ মামলা করেন আবু সাঈদের বড় ভাই। মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মো: হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন পলাতক।

অন্য ছয় আসামি বর্তমানে কারাগারে। তারা হলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী।

গত ৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ -এর বিচারক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের ৯ এপ্রিল মামলাটির রায়ের দিন ধার্য করেন।