নাটোরে আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের মামলায় অমিত (২৪), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২২) নামে তিন আউটসোর্সিং পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে গ্রেফতার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগীর বাবা নাটোর সদর থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন।
গ্রেফতার তিনজন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আউটসোর্সিং পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী তার দুই বছর বয়সী অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসার জন্য ৫ জুন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করান। সন্তানের সাথে তিনিও হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অবস্থান করছিলেন।
রোববার (৭ জুন) রাতে ওষুধ দেয়ার কথা বলে একজন অভিযুক্ত তাকে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার সিঁড়িঘরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অপর দুই অভিযুক্ত ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে। ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়ার ভয়-ভীতি দেখিয়ে তারাও ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় শিশুটি মাকে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের নজরে আসে। পরে হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনাস্থলে যেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। ভুক্তভোগী নারী তাদের ঘটনার বিস্তারিত জানান।
অভিযোগ আছে, এ সময় আনসার সদস্যরা হাসপাতালের কর্মীদের পরামর্শে অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ছেড়ে দেন।
সোমবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তৎপর হয় এবং অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আটক করে। মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নারীর বাবা সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
তবে ওই হাসপাতালের আনসার সদস্য আল আমিন জানান, তারা নার্সদের কাছে ঘটনা শুনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তদের আটক করেন। তবে পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে ছাড়া পেয়েছেন, তা তিনি জানেন না।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, পরদিন সকালে হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে তাদের বেডে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তিনি জানতে পারেন নার্সরা মা-মেয়েকে আলাদা ঘরে হেফাজতে রেখেছেন। এ সময় তিনি ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পারেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, অসুস্থ শিশুটির কান্নাকাটি শুনে কর্মীরা তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে তারা সব রকম সহযোগিতা করেছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।



