রংপুর ব্যুরো
রংপুরে অল্পের থেকে দগ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে একটি মিনিকোচের অন্তত ৭০ জন যাত্রী।
আগুন আতঙ্কে বাস থেকে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর মহানগরীর হাসনাবাজার এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সাদমান পরিবহন’-এর একটি মিনিবাস দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে হাসনাবাজার এলাকায় রাস্তার পাশে থামে। এ সময় বাসটির টুলবক্স থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানালা ও দরজা দিয়ে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া স্থানীয় যুবক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলের পাশে বসে ছিলেন। হঠাৎ বাসটি থামার পর টুলবক্স থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে ছুটে যান। এ সময় চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে বাস থেকে নেমে চলে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা মিলে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন। টুলবক্স খুলতেই আগুনের শিখা দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পানি, বালু ও ভেজা কাপড় ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে দেখা যায়, ব্যাটারির একটি পোল ঢিলা হয়ে যাওয়ায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, বাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ায় যাত্রীরা আরো বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বিক্ষোভের চেষ্টা করলে ট্রিপল নাইন সেবায় ফোন করে পুলিশ ডাকা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাসের যাত্রী ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম জিসান জানান, রংপুর টার্মিনাল থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বাসটি দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে ধোঁয়া বের হতে শুরু করলে বাস থামিয়ে চালক ও হেলপারসহ পরিবহনের কর্মীরা নেমে যান। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে জানালা ও দরজা দিয়ে বের হতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। তিনি দাবি করেন, বাসটিতে আসনসংখ্যার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীসহ প্রায় ৭০ জন নারী-পুরুষ ছিলেন।
ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে বাসচালক লেবু মিয়া ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, টুলবক্স থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে নিরাপত্তার স্বার্থে বাস থামানো হয়েছিল। পরে দেখা যায় ব্যাটারির একটি পোল ঢিলা থাকায় আগুন লাগে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন দ্রুত নিভে যায়। পরে বিকল্প একটি বাস এনে যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানো হয়।
রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার এসআই হানিফ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, চালক ও পরিবহনকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। এতে যাত্রীরা নিরাপদে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
তিনি আরো বলেন, আগুনটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে তা জ্বালানি অংশে ছড়িয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত।



