আগামী নির্বাচনে মার্কার ব্যালটে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিন, গণভোটের মার্কা টিক চিহ্ন। যে ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সেই ঐক্যেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ৪টায় রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচারও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কারমাইকেল কলেজ মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে এ সময় আরেক বিশেষ সহকারি মনির হায়দার, ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, ডিসি মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জাতীয় ইমাম সমিতির বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজগর আলী, কারমাতিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা বায়েজিদ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটের মার্কা টিক চিহ্ন উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ বলেন, ‘মানুষকে নির্বাচনের ব্যাপারে উৎসাহী করতে হবে। আপনারা যখন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে যাবেন। যাওয়ার আগে অন্যদের সাথে নিয়ে যাবেন। এবার ভোটে দুই ব্যালট দেয়া হবে। একটা সাদা আরেকটা গোলাপী। সাদা ব্যালটে জাতীয় সংসদের যারা প্রার্থী। দলের প্রার্থী। তাদের নাম থাকবে মার্কা থাকবে। আপনার যাকে মনে চায়, যাকে যোগ্য মনে করেন সাদা ব্যালটে তাকেই ভোট দিন। কোন দলে ভোট দিবেন। কাকে ভোট বিনে সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। যাকে মনে হয় তাকেই মার্কায় ভোট দিবেন। আর গোলাপীতেও একটা মার্কা থাকবে। সেটা হলো অনেকেই বলে গণভোটের মার্কা কি! গণভোটের মার্কা হলো টিক চিহ্ন। ‘হ্যাঁ’ এবং না এর মধ্যে পাশে দেখবেন চিহ্ন। সেখানে আপনি ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিবেন।’
গত ৫৪ বছরের ইতিহোসে এই প্রথমবারের মতো দেশকে বদলানের সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা পারি। আমরা ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা করতে পারি। আমরা নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারি। সেই সুযোগ গত ৫৪ বছরের ইতিহোসে এই প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়েছে। আসুন আমরা সকলকে উৎসাহিত করি। যাতে আমরা নতুন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুভ সূচনা করতে পারি। রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে। যত প্রতিকূলতাই থাকুক। যদি ন্যায়ের পক্ষে মানুষের পক্ষে থাকেন। তাহলে বিজয় অনিবার্য।’
গণভোট হচ্ছে দরজা। চাবি দিয়ে সেই দরজা খোলার আহ্বান জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা বলেছি যে দেশের চাবি আপনার হাতে। গণভোট হচ্ছে সেই দরজা। চাবি দিয়ে সেই দরজা খুলুন। সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত। সেজন্য আসুন। আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে যে ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়েই ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আমরা যেন একটা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করতে পারি।’
‘হ্যাঁ’-না ভোটের একটাই সেটা হলে প্রশ্ন দেশ বদলানোর উল্লেখ করে উপস্থিত ইমামদের উদ্দেশে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আপনারা ইমাম মানুষ। আপনারা সব বোঝেন। আপনারা সমাজকে নেতৃত্ব দেন। সেহেতু আপনারা অন্যদের বোঝান, যে জুলাই জাতীয় সনদের ‘হ্যাঁ’-না ভোটের কথা। সেই ‘হ্যাঁ’-না ভোটের মূল কথাটা হচ্ছে, দেশটা বদলাবার চেষ্টা করতে হবে। দেশটা বদলাতে হবে। অনেকে বলেন, অনেক প্রশ্ন তার মধ্যে একটা প্রশ্ন ‘হ্যাঁ’-না। মূলত মূল কথা একটাই। আপনি পুরোনো ব্যবস্থা বহাল রাখতে চান। না নতুন করে দেশটাকে গড়ে তুলতে চান। এটাই হলো প্রশ্ন।‘
নতুন করে গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘নতুন করে গড়ে তুলতে হলে আপনাকে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। শুধু আপনি বললে হবে না। অন্যদের বুঝিয়ে বলতে হবে। মানুষ পরিবর্তন চায়। তা নাহলে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান হতে না। ফলে এই যে প্রশ্নগুলো। পরিবর্তনের জায়গাগুলো। সেগুলিই আপনারা যদি মানুষকে বোঝাতে পারেন। মানুষকে উৎসাহী করতে পারেন। তাহলে নিঃসন্দেহে আমি নিশ্চিত মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে।‘
আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যদি গণভোটে হ্যাঁ বলে রাষ্ট্র কাঠামো বদলানোর ম্যান্ডেট দেয়, তাহলে কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা নাই সেটা না মানবে অথবা বাস্তবায়ন না করবে।’
পরে তিনি একই স্থানে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।



