খুলনার কয়রা উপজেলায় বিনির্দেশ বহির্ভূত ও ভাউচার ছাড়া সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স অধিকারী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও বিএডিসি সার ডিলার প্রভাষ চন্দ্র অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাছারিবাড়ি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন কয়রা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস।
এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন দাখিল করেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাছারিবাড়ি বাজারের বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স অধিকারী ট্রেডার্স থেকে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের এক ব্যক্তির কাছে এক বস্তা ইউরিয়া ও আট বস্তা ডিএপি সার বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে এবং কোনো চালান বা ভাউচার ছাড়াই এসব সার বিক্রি করা হয়। পরে সারগুলো ভ্যানযোগে নদী পারাপারের জন্য খেয়াঘাটের দিকে নেয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে ভ্যানটি আটক করে উপজেলা কৃষি অফিসে খবর দেন।
ডিলার প্রভাষ চন্দ্র অধিকারী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ছেলে গাবুরা ইউনিয়নের এক ব্যক্তির কাছে নয় বস্তা সার বিক্রি করে। পরে স্থানীয়রা ভ্যানসহ সেটি আটক করে উপজেলা কৃষি অফিসারকে জানালে এসি ল্যান্ড এসে আমাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।’
কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক কুমার ঘোষ বলেন, নিয়মিত সারের বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ডিলার ভাউচার ছাড়া সার বিক্রি করেছেন এবং সারগুলো নদীর ওপারে শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সার ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৬-এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি আমলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত) অনুযায়ী ডিলারের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কয়রা উপজেলায় সার ও বীজ মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



