সিলেটে বাস টার্মিনালে সংঘর্ষে আহত আরেক শ্রমিকের মৃত্যু, পাল্টাপাল্টি মামলা

এর আগে, একই ঘটনায় শনিবার (২ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত পরিবহন শ্রমিক রিপন আহমদের (৩০) মৃত্যু হয়।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সংঘর্ষের ঘটনায় আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সংঘর্ষের ঘটনায় আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নাম দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার বাঘবাড়ী গ্রামের মো: আজির উদ্দিনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশরাফুজ্জামান। তিনি জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন মারা যান। গতকাল বুধবার (৬ মে) দক্ষিণ সুরমা থানায় নিহতের বাবার দায়ের করা মামলার অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে, একই ঘটনায় শনিবার (২ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত পরিবহন শ্রমিক রিপন আহমদের (৩০) মৃত্যু হয়। ফলে এখন পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

দু’জন শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে আসামি করে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলায় এক পক্ষ অপর পক্ষকে আসামি করেছে। এতে পরিবহন সেক্টর উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ২ মে আহত পরিবহন শ্রমিক রিপন আহমদ (৩০) নিহতের ঘটনায় নিহতের বাবা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের ছাবলু মিয়া মঙ্গলবার (৫ মে) দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা ও শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনসহ (৩৬) মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিভিন্ন বাস ও টিকিট কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক শ্রমিক আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় সাতজন শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইতোমধ্যে চিকিৎসাধিন থাকা অবস্থায় দু’জন শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

এদিকে বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া পরিবহন শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তার বাবা মো: আজির উদ্দিন সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিমসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশরাফুজ্জামান। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।