সিলেটের কিংবদন্তি ফুটবলার রনজিৎ দাস (৯৩) আর নেই। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
১৯৫৫ সালে ইস্পাহানি ক্লাব দিয়ে ফুটবল যাত্রা শুরু রনজিৎ দাসের। তারপর আজাদ স্পোর্টিংয়ের সেই সোনালী দিন। ১৯৫৮ সালে তার অধিনায়কত্বেই আজাদ স্পোর্টিং জিতেছিল লিগ শিরোপা।
মোহামেডানের সাদা-কালো জার্সিতেও ছড়িয়েছেন মুগ্ধতা। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডানের হয়ে অল ইন্ডিয়া ডুরান্ড কাপে খেলেছেন। তার খেলার ফর্দ করতে গেলে তা সহজে শেষ হবে না। খেলা ছেড়ে হয়েছেন কোচ। আজাদ স্পোর্টিং ফুটবল দলকে কোচিং করিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। আজ যখন ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক নক্ষত্র হারাচ্ছে, তখন রণজিৎ দাসের চলে যাওয়া সেই শূন্যতা আরো বাড়িয়ে দিলো।
১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর জন্ম এই ক্রীড়াবিদের । ছিলেন ‘মাল্টি-ট্যালেন্টেড’ ক্রীড়াবিদ। ফুটবল থেকে হকি—সবখানেই ছিল তার পদচারণা। পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলপোস্ট আগলেছেন নিষ্ঠার সাথে। পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন তরুণ গোলকিপার রণজিৎ দাস। দাপিয়ে হকি খেলেছেন ষাটের দশকে।
তবে মনের এক কোণে আজীবন একটা ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। উচ্চতা কিছুটা কম হওয়ার কারণে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পাননি। আক্ষেপ করে একবার বলেছিলেন, উচ্চতা কম ছিল বলেই হয়তো হলো না। তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার, প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
শেষ জীবনে স্ত্রী রেখা দাসই ছিলেন তার অবলম্বন। যে মানুষটি এক সময় মাঠের সব অজানা গল্প অনর্গল বলে যেতেন, নিজেকে বলতেন ‘টেলিগ্রাম যুগের মানুষ’, সেই মানুষটি শেষ সময়ে এসে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে কিংবদন্তি জাকারিয়া পিন্টু চলে গেছেন, তার আগে জহিরুল হক, আর আজ রণজিৎ দাস।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের মহীরুহগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটের সেই পাহাড়ি রাস্তার ঢালে এখন আর কেউ ফুটবল-হকির গল্প শোনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না। রণজিৎ দাস নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া বীরত্বগাথা এ দেশের ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে।



