মো: মুরাদ হোসেন মন্ডল, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছে কুড়িগ্রামের উলিপুরের শিশু রোহান হোসেন লাব্বাইক। দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় তিন লাখ টাকা। অসহায় পরিবারটি সেই ব্যয় বহনে অক্ষম হওয়ায় সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন রোহানের বাবা-মা।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তিস্তা নদী-তীরবর্তী দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরা (উত্তর কদমতলা) গ্রামের বাসিন্দা শাহাজাহান ও রিনা বেগম দম্পতির ছেলে রোহান হোসেন লাব্বাইক। নদীভাঙনে সাতবার বসতভিটা হারিয়ে পরিবারটি বর্তমানে বাঁধের ওপর একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাত সদস্যের সংসারের একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল শাহাজাহানের রিকশা চালানো।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি রোহানের শরীরের বাম পাশে কিডনির কাছে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়ার পর তাকে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার কিডনিতে টিউমার শনাক্ত করেন। পরে অস্ত্রোপচার করে টিউমারসহ একটি কিডনি অপসারণ করা হয়।
অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা জোগাড় করাও পরিবারটির পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার ইসহাক আলীর উদ্যোগে এলাকার বিত্তবান ব্যক্তি, স্কুল-মাদরাসা এবং হাট-বাজার থেকে সহায়তা সংগ্রহ করে সেই অর্থের ব্যবস্থা করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর উন্নত পরীক্ষায় রোহানের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে তাকে ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহানের সুস্থতার জন্য আগামী ১৫ থেকে ২০ মাস নিয়মিত উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপিসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু ইতোমধ্যে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবারটি। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে নেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাবা-মায়ের।
নদীভাঙনে একাধিকবার বসতভিটা হারানো পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে রিকশাটিও বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা শাহাজাহান। বর্তমানে পরিবারটির পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রোহানের বাবা শাহাজাহান বলেন, ‘ছেলেকে বাঁচাতে যা ছিল সবই খরচ করেছি। চিকিৎসার জন্য রিকশাটাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন হাতে কিছুই নেই। একজন বাবা হয়ে সন্তানের এমন কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।’
তিনি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে সন্তানের চিকিৎসায় সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। চিকিৎসা সহায়তায় যোগাযোগ : ০১৩০০-১৮১৭২০।



