বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ধোবাউড়ার আকাশ-বাতাস আজ গভীর শোকে আচ্ছন্ন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু বিএনপির জন্য নয়, এটি গণতন্ত্রকামী সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি ছিলেন স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে সাহসী ও জনপ্রিয় নেত্রী, যিনি স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক জীবন্ত পাঠশালা বলা হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ধাইরপাড়া মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রিন্স বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ধোবাউড়ায় অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভা ও শোক মিছিল ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হয়েছে। এতে বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গারো, হাজং ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কালো পতাকা হাতে শোক মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি আরো বলেন, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, শারীরিক অসুস্থতা ও সীমাহীন নির্যাতন— কোনো কিছুই তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। তিনি ক্ষমতার মোহে নয়, লড়াই করেছেন মানুষের ভোটের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আপসহীন রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা গণতন্ত্রের মাকে হারিয়েছি, জাতি হারিয়েছে একজন অভিভাবককে। তবে তার আদর্শ কখনো হারায়নি। বেগম খালেদা জিয়ার শ্রম ও ত্যাগে গড়ে ওঠা বিএনপি কখনো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
শোকসভায় তিনি শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
ধোবাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদিরের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন— সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবদুল হালিম মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাস উদ্দিন, ধোবাউড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজহারুল আহসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।



