কোথাও গর্ত, কোথাও ইটের জোড়াতালি। পায়ে চলাচলই দায় ও গাড়ি চলে হেলেদুলে। কিছু স্থানে আরসিসি ঢালাই, ইট-বালুর অস্তিত্বই নেই। সড়কজুড়ে জমে থাকা পানিতে সড়ক দেখাও যায় না।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে হাজারো রোগী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা। তবে হাসপাতাল সড়কটি কবে সংস্কার হয়েছে তাও জানা নেই অনেকের। তাই ভাঙাচোরা জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে পথচারীরা চলছে দায়সারাভাবে। তবে এ সড়কের পাশেই এবং হাসপাতাল সংলগ্ন নির্মিত হচ্ছে উপজেলার মডেল মসজিদটি।
এ মসজিদের মালামাল পরিবহন করাতেও সড়কের অবস্থা আরও করুণ হয়ে গেছে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। হাসপাতালের সামনে একটি সেপটিক ট্যাংকের ময়লা বের হয়ে গড়াচ্ছে সড়কে। রোগী বা চলাচলকারীরা তা পেরিয়ে যাচ্ছেন। এতে রোগ-বালাই আরো ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে রাখা হয়েছে যাতে দুর্গন্ধ না আসে।
জানা যায়, মির্জাগঞ্জের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান আশ্রয়স্থল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল। প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক রোগীসহ হাজারো মানুষের যাতায়াত। কিন্তু হাসপাতালে যাতায়াতের সড়কের অবস্থা বেহাল। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগী ও পথচারীদের। শুধু সড়ক নয়, হাসপাতালের প্রবেশপথ ময়লা পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কে ব্যবহৃত রড বের হয়ে প্রবেশপথটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, হাসপাতালে যাতায়াতের সড়কের যে অবস্থা, তাতে ঝাঁকুনিতে রোগী আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রসূতিদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বেহাল দশা চললেও সড়কটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল নয়, একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীসহ সাধারণ মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটির এমন অবস্থা যে, এতে চলাচলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রবেশপথের সড়কের ঢালাই উঠে রড বের হয়ে আছে। হাসপাতালে প্রবেশকারী মানুষের পায়ে আঘাত লেগে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হাসপাতালের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের সীমানা প্রাচীরও ভেঙে পুকুরে পড়ে আছে।
এক ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা উত্তম কুমার বলেন, ‘আমার মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য আসি। কিন্তু সড়কের এমন অবস্থার কারণে আনা-নেওয়া করার সময় ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। পাশাপাশি জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে সড়কে চলা দায় হয়ে পড়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ‘মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। ভর্তিকৃত রোগীদের বাইরে থেকেও ওষুধ ক্রয় করতে হয়। দিনে কয়েকবার বাইরে যাওয়া-আসা করতে হয়। সড়কে হেঁটে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের প্রবেশপথে ট্যাংক থেকে বের হচ্ছে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। এতে রোগ আরো ছড়াচ্ছে।’
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, হাসপাতালে প্রবেশের সড়কটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সব ধরনের রোগীকে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা উন্নয়ন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিতও করেছি।
তিনি আরো জানান, হাসপাতাল সংলগ্ন উপজেলার মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে। এতে মালামাল পরিবহনে সড়কের আরো ক্ষতি হয়েছে। ঠিকাদারকে বলার পরে কিছু কিছু অংশে ইট-সুরকি বিছিয়ে দিয়েছেন। তাও বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো: আতিকুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কটি বেহাল অবস্থায় আছে। মেইনটেন্যান্সের মাধ্যমে সড়কটির কাজ অতি শীঘ্রই শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো: রাসেল জানান, মির্জাগঞ্জের হাসপাতাল সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি যাতায়াতের যথাযথ উপযোগী করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সড়কটির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।



