রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও সদরের রাজাগাঁও উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তখন উপচে পড়া ভিড়। মাইকে বাজছে দলীয় স্লোগান, আর চারদিকে নির্বাচনী উত্তাপ।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের এই জনসভাকে ঘিরে স্থানীয়দের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তবে সভার রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে মাঠের চারপাশ ঘিরে থাকা একদল সুশৃঙ্খল যুবক যারা পরিচয় দিচ্ছেন ‘জামায়াত সিকিউরিটি ফোর্স’ বা জেএসএফ হিসেবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে এই সভায় দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। প্রথাগত স্বেচ্ছাসেবীর বদলে একই ধরনের পোশাক পরা জেএসএফ সদস্যরা মাঠের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে মঞ্চের চারপাশ আগলে রেখেছিলেন। তাদের চোখেমুখে ছিল পেশাদারিত্বের ছাপ। সাধারণ ভোটারদের অনেকেই কৌতূহলী চোখে তাকাচ্ছিলেন এই বাহিনীর দিকে।
মাঠে আসা স্থানীয় এক প্রবীণ ভোটার শাহেদ আলী বলেন, আগেও ভোট দেখেছি, সভা দেখেছি। কিন্তু এভাবে আলাদা ইউনিফর্ম পরা দলীয় নিরাপত্তা বাহিনী আগে তেমন চোখে পড়েনি। দেখতে অনেকটা সরকারি বাহিনীর মতোই গোছানো মনে হচ্ছে।
বক্তব্যের শুরুতেই দেলোয়ার হোসেন উন্নয়নের চেয়েও ‘নৈতিক রাজনীতি’র ওপর বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, এই জনপদের মানুষ বছরের পর বছর বঞ্চিত। আমরা কেবল রাস্তাঘাট নয়, মানুষের অধিকার এবং নৈতিক সমাজ গড়তে চাই। তাঁর প্রতিটি বক্তব্যের ফাঁকে সমর্থকদের হাততালি আর গগনবিদারী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজাগাঁওয়ের শান্ত জনপদ।
সভার আলোচনা এখন শুধু জনসভার মাঠ পেরিয়ে চায়ের দোকান পর্যন্ত গড়িয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়, এই ‘সিকিউরিটি ফোর্স।
আয়োজকদের দাবি, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেএসএফ-এর এক সদস্য বলেন, আমাদের কাজ প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের যাতে ভোগান্তি না হয় তা দেখা।



