মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব : চুয়াডাঙ্গায় পাম্পে ভিড়, তেল বিক্রি সীমিত

‘দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। গুজব বা আতঙ্কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কেনা বা মজুত করার কোনো দরকার নেই।’

হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
তেল পাম্পে বেড়েছে ক্রেতার সংখ্যা
তেল পাম্পে বেড়েছে ক্রেতার সংখ্যা |নয়া দিগন্ত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করার প্রবণতা দেখা দেয়ায় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। অনেকেই বেশি পরিমাণ তেল নিতে এলেও সীমিত বিক্রির কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ না পেয়ে কম তেল নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প মালিকরা।

চুয়াডাঙ্গা শহরের অ্যাকাডেমি মোড়ের মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্পের সহকারী ম্যানেজার আশাবুল হক বলেন, ‘আমরা খুলনার নোয়াপাড়া ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করি। বর্তমানে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোটা সিস্টেম চালু হয়েছে। আগে দৈনিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো, এখন চাহিদা বেড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে।’

শহরের আরেকটি তেলপাম্প মেসার্স জোয়ার্দার পেট্রোলিয়াম। এ স্টেশনের ক্যাশিয়ার মনজের আলী বলেন, ‘আগে যেখানে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১২ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেয়া হচ্ছে না, তবে কৃষকদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মামুন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মুকুল হোসেন বলেন, ‘আগে দৈনিক পাঁচ হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো, এখন প্রায় ১০ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় আমরা ক্রেতাদের প্রয়োজন মতো দিতে পারছি না।’

তেল কিনতে আসা লাটাহাম্বা গাড়ির চালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ লিটার তেল প্রয়োজন হলেও সীমাবদ্ধতার কারণে মাত্র ১০ লিটার নিতে পেরেছি। অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না।’

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জাকিরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে ক্রেতাদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। আগে দৈনিক তিন থেকে চার হাজার লিটার বিক্রি হলেও এখন তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ডিজেল তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে ডিঙ্গেদহের রাজু এলপিজির মালিক আশিকুজ্জামান রাজু বলেন, ‘মাসে প্রায় ২১ হাজার লিটার এলপিজির চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ১৫ হাজার লিটার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।’

পাম্প মালিকরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। গুজব বা আতঙ্কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কেনা বা মজুত করার কোনো দরকার নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুত করেন বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেন, তাহলে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’