নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১২ মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল আহমেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১-এর সদস্যরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টায় র্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১১ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে র্যাব-১১ সিপিএসসি ও র্যাব-২-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানার পান্থপথ এলাকা থেকে রাসেল আহমেদকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার রাসেল আহমেদ সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কুরবানপুর এলাকার মৃত সাফাতুল্লার ছেলে।
র্যাবের দাবি, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কোরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় একটি প্রভাবশালী ও সহিংস সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে আসছিল। শিল্পকারখানা, ড্রেজিং ও আবাসন প্রকল্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তারের মূল চেষ্টা থাকত এই বাহিনীর। ইট, বালু সরবরাহ, স্ক্র্যাপ বা ঝুট ব্যবসা এবং নির্মাণকাজের একক নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত তারা। এলাকায় ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এ বাহিনী প্রকাশ্যে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, টেঁটা, হকিস্টিক নিয়ে মহড়া দিয়ে আসছিল। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাথে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি চালানো, টেঁটাবিদ্ধ করে আহত করা এবং বাড়িঘরে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে ইতোমধ্যে। এছাড়া মাদক বা সন্ত্রাস সংক্রান্ত অপরাধের সংবাদ প্রকাশ করলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করার মতো ঘটনাতেও তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারের পর রাসেলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলার কুরবানপুর এলাকায় তার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে একটি গোডাউন থেকে একটি দেশীয় শটগান, চার রাউন্ড গুলি এবং ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, রাসেলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার রাসেল আহমেদকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গতকাল শুক্রবার রাতে সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



