রাজবাড়ীর কালুখালীতে আসাদুল ইসলাম নামের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো: শামসুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্য্যদিয়া গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মো: মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মন্ডলের ছেলে মো: আনোয়ার মন্ডল (৪৪) ও সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে মো: আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।
নিহত আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি মীর মশাররফ হোসেন সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ও মদাপুর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী থানার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া মাদরাসার পেছনে পাটক্ষেতে নিখোঁজ মো: আশাদুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা শাহজাহান মন্ডল কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা নিবিড়ভাবে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রাখে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, আসামি মিজান শেখের কাছ থেকে ভিকটিম আশাদুল ইসলাম ৪ মাস আগে ৬৮ হাজার টাকা ধার নেন। সময়মতো ধারের টাকা ভিকটিম পরিশোধ করতে না পারায় পূর্বে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলমান ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা মিলে আশাদুলকে হত্যা করে লাশে আগুন লাগিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যা মামলায় সম্পৃক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি রক্তমাখা হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) ও একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো: শামসুল হক বলেন, গ্রেফতার তিন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আসামি মিজান শেখ বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তপূর্বক গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



