নাঙ্গলকোটে রিকশাচালক কাদের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, বাবা-মা-ভাই গ্রেফতার

বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি নিয়ে কাদেরের সাথে তার মা-বাবা ও ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে মামলার আসামিরা ওইদিন রাতে কাদেরকে একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Nangalkot
গ্রেফতার মামলার আসামি ও নিহতের বাবা-ভাই
গ্রেফতার মামলার আসামি ও নিহতের বাবা-ভাই |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আবদুল কাদের (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মা ও ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে অভিযুক্ত নিহতের বাবা লিটন (৫০) ও ছোট ভাই রাকিব হোসেনকে (২০) ফেনী সদর থানা এলাকার সাদাবপুর রেলগেট সংলগ্ন রেললাইন থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে, থানা পুলিশ নিহতের মা কাজল বেগমকে (৪৫) গ্রেফতার করে। এ সময় তারা থানা পুলিশের কাছে কাদের হত্যকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

এ ঘটনায় নিহত কাদেরের স্ত্রী নাজমা আক্তার মঙ্গলবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের বাবা লিটন, মা কাজল বেগম, ছোট ভাই রাকিব হোসেন ও মামা রিপনকে (২২) আসামি করা হয়।

কাদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে নাঙ্গলকোট থানার ওসির কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় থানার মোবাইল ডিউটিতে থাকা অবস্থায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একটি সংবাদ পান। সংবাদ পেয়ে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ার পাড় এলাকায় গিয়ে একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে নিমজ্জিত অবস্থায় একটি অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান তিনি। স্থানীয় এলাকাবাসী ওই লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম না হওয়ায় অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে এসআই সাজ্জাদ হোসেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেন।

পরে বিশ্বস্ত সূত্র ও অন্যান্য অফিসারের তৎপরতায় অজ্ঞাত পরিচয় লাশের পরিচয় মেলে। নিহতের বাবা জনৈক লিটন মর্মে জানতে পেরে পুলিশ অভিযান চালায়। হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা পশ্চিমপাড়া নতুন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লিটনের স্ত্রী কাজল বেগম ও তার মেয়ে লিজা আক্তারকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, উদ্ধারকৃত লাশ লিটন-কাজল দম্পতির সন্তান কাদেরের। পরে ৩০ জুন নিহত আবদুল কাদেরের স্ত্রী নাজমা আক্তার থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্বীকারোক্তিতে গ্রেফতার আসামিরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি নিয়ে পারিবারিকভাবে কাদেরের সাথে তার মা-বাবা ও ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে মামলার আসামিরা ওইদিন রাতে কাদেরকে তার নানার বাড়ি উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের আদ্রা গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। একপর্যায়ে তারা কাদেরের হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পরে তারা পুকুর থেকে কাদেরের লাশ উত্তোলন করে বাড়িতে নিয়ে এসে নিজেদের রান্নাঘরের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে উপরে স্লাব বসিয়ে দেন। এবং তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের রান্নাবান্নাসহ যাবতীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

তিন দিন লাশ রান্নাঘরে থাকার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ালে গ্রেফতার আসামি লিটন ও পলাতক আসামি মামা রিপন মিলে নিহতের লাশ ২৯ জুন রাতে গর্ত থেকে ওঠায়। এবং অটোরিকশাযোগে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় মেরকোটগামী কাঁচা সড়কের পাশের গিয়ে একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে কাদেরের লাশ লুকিয়ে রেখে চলে আসে।

আসামিদের দেয়া তথ্য মতে, লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা, রান্নাঘর থেকে একটি কোদাল ও সাবল এবং হাত-পা বাঁধার দড়ি উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। এবং গ্রেফতার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।