মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অটোচালক শাহজালাল (৩৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চোরাই ইজিবাইক উদ্ধারসহ নিহতের দুই বন্ধু আসামি ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৮) ও ফাহিমকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে সাগর এবং গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে ফাহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত শাহজালাল বাউশিয়া ইউনিয়নের বক্তারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ৬ ডিসেম্বর দুপুরে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চন নদীর একটি খালে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেলে নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম লাশটি তার ভাই শাহজালালের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
ঘটনার দিন ৫ ডিসেম্বর সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন দিলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবিরের তত্ত্বাবধানে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু ইব্রাহিম ওরফে সাগরকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সাগর স্বীকার করে, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশে সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে শাহজালালকে অচেতন করে। পরে হাত-পা বেঁধে তাকে কাঞ্চন নদীর খালে ফেলে দিয়ে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান। পরদিন কুমিল্লার চান্দিনায় ৪৭ হাজার টাকায় ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেন। তার দেয়া তথ্যে একই রাতে গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে ফাহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার দাউদেরখাড়া এলাকায় ফাহিমের বাড়ি থেকে চোরাই ইজিবাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



