মিরসরাইয়ে হামলায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

‘অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওইদিন রাতে টিপুর সহযোগী আব্দুর রহিম আমাকে বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাক আটকের বিষয়টি দেখতে বলে।’

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, (ডানে) বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীর সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, (ডানে) বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীর সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় সীমান্তে অবৈধ পথে আসা গরু ব্যবসায়ীদের হামলায় গুরুত্বর আহত ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষক কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার চাচা নাজমুল হোসেন।

নিহত হৃদয় করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

এদিকে ছাত্রদল নেতা হৃদয় মারা যাওয়ার খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে কয়লা বাজার। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা কয়লা বাজার এলাকার বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতে হামলায় চালানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লা বাজারে অবৈধভাবে আসা একটি গরুর ট্রাক আটক করা হয়। বদ্ধভবানী এলাকার বিএনপি নেতা মো: টিপু ও আব্দুর রহিমের সেল্টারে গরুগুলো নিয়ে আসছিল টিপুর ভাই সুমন। তখন ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করে স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ ও তার সহযোগীরা।

চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সুমনকে মারধর করে সবুজ ও তার লোকজন। তখন আব্দুর রহিম কয়লা এলাকার বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমকে ফোন দিয়ে জানান, কয়লায় কে বা কারা তাদের গরুর গাড়ি আটকে রেখেছে। বিষয়টি যেন তিনি দেখেন। আব্দুল আলিম ব্যস্ততার কারণে যেতে পারবেন না বলে জানালে অন্তত তার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলেন আব্দুর রহিম।

তখন আব্দুল আলিম ছেলে শাহরিয়ার হোসেন হৃদয় ও আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে বিষয়টি দেখার জন্য কয়লা বাজারে পাঠান। ১৫ মিনিট পর আব্দুল আলিমের কাছে খবর আসে, তার ছেলে হৃদয় ও আনোয়ারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরপর দৌড়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের বাবা আব্দুল আলিম বলেন, ‘অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওইদিন রাতে টিপুর সহযোগী আব্দুর রহিম আমাকে বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাক আটকের বিষয়টি দেখতে বলে। আমি সারাদিন বাইরে থাকায় ক্লান্ত ছিলাম। যেতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আমার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরপর আনোয়ারসহ আমার ছেলেকে কয়লা বাজারে ঘটনাটি জানতে পাঠাই। এর ১৫ মিনিট পর খবর আসে আমার ছেলের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পাঁচ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।’

এ বিষয়ে মো: টিপু অবৈধ গরু ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ওইদিন রাতে আমার ভাই সুমনের মাথা ফাটিয়ে দেয় সবুজ ও তার লোকজন।’ হৃদয়ের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘তার ওপর কারা হামলা করেছে আমি জানি না।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, ‘নির্মম সন্ত্রাসী হামলায় আমার দুঃসময়ের রাজপথের সহযোদ্ধাকে হারালাম। জোরারগঞ্জ থানা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষে আহত এক ছাত্রদল নেতা হাসপাতালে মারা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর খবরে কয়লা এলাকায় কিছু লোক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।’