টঙ্গীর ২ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে ভিন্ন চিত্র

সফিউদ্দিন সরকার অ্যাকাডেমি অ্যান্ড কলেজ শতভাগ পাস ও বিপুল সংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় আগের তুলনায় ফলাফল অবনতি হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Tongi
এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল
এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল |ফাইল ছবি

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে অবস্থিত দুই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান— সফিউদ্দিন সরকার অ্যাকাডেমি অ্যান্ড কলেজ এবং তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে এবার দেখা গেছে দুই ধরনের চিত্র।

একদিকে সফিউদ্দিন সরকার অ্যাকাডেমি অ্যান্ড কলেজ শতভাগ পাস ও বিপুল সংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় আগের তুলনায় ফলাফল অবনতি হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সফিউদ্দিন সরকার অ্যাকাডেমি অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১০০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৯ জন শিক্ষার্থী।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, একসময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মেধাতালিকায় প্রায় নিয়মিতভাবেই শীর্ষ দশে স্থান করে নিত প্রতিষ্ঠানটি। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয়করণ এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তার অর্জিত সুনাম ও ধারাবাহিকতা হারাতে বসেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হলেও বিগত সরকারের সময় তাকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছিল।

অনেকের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসতে শুরু করে এবং এবারের ফলাফল সেই পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক প্রতিফলন।

অপরদিকে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় মোট ৭৭২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৫১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৭.২৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৬ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে দেখা যায়, এ+ পেয়েছে ২৬৬ জন, এ গ্রেড ৩৬৭ জন, এ- ৭৬ জন, বি গ্রেড ৩৩ জন এবং সি গ্রেড নয়জন শিক্ষার্থী। অকৃতকার্য হয়েছে ২১ জন।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা জানায়, এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ ফলাফল নিয়ে অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অনেক অভিভাবকের মতে, সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সময়কার ফলাফল ও বর্তমান অধ্যক্ষ হিফজুর রহমানের সময়কার ফলাফলের তুলনামূলক মূল্যায়ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাডেমিক মান, ফলাফলের ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ফলাফল প্রকাশের পর দুই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে টঙ্গীর শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সফিউদ্দিন সরকার অ্যাকাডেমি অ্যান্ড কলেজের সাফল্যকে অনেকে টঙ্গীর শিক্ষার জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা তার দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।