কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে পাকুন্দিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সারোয়ার আলমসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো: মাজহারুল হক উজ্জ্বল এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পাকুন্দিয়া থানাকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারিখে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়া পৌর সদরে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিকে ঘিরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার মৌখিক অনুমোদন নেয়া হলেও, তৎকালীন ওসি সারোয়ার আলম নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দাবি করে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি করতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এমনকি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার মিছিল করলে গুলি করার হুমকি দেন ওসি সারোয়ার।
ওসির বাধা উপেক্ষা করে বিএনপি ভেন্যু পরিবর্তন করে পৌর সদরের সৈয়দগাঁও এলাকায় পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম শুরু করলে তৎকালীন ওসি সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হামলা চালায়। সেই সময় পুলিশের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, ককটেল এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পথসভায় হামলা চালায়। এতে বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল, শ্রাবণ, গোলাপ, মুখলেছ, মিনহাজসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
মামলায় পাকুন্দিয়া থানার সাবেক ওসি সারোয়ার আলম, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ হাসান সুমন, উপপরিদর্শক (এসআই) শাহকামাল, এসআই আরিফ, এসআই মিজান, এসআই মজিবুর, এসআই মো: আশরাফুল্লাহ, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই শহিদুল্লাহ, এসআই রফিকুল ইসলাম, এসআই মেহেদী হাসান, এসআই আওলাদ হুসাইন, এসআই আরশাদ মিয়া, এসআই আশরাফ মোল্লাসহ পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩২ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বল বলেন, ‘কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ ও হামলাকারীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের লক্ষ করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে বিএনপির বেশ কয়েকজন কর্মী গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এমনকি আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেয়নি তৎকালীন ওসিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আমরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’



