মাদারীপুরের রাজৈরে সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দণ্ডপ্রাপ্ত রাজিব হাওলাদারের ভাই সজিব হাওলাদার, কেন্দ্রীয় শ্রমিক শক্তির সদস্য জাবের হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি নেতা বাবু হাওলাদার, মান্নান হাওলাদার, ওবায়দুর রহমান বাঘা, খালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাগর মিয়া, যুবদল নেতা খায়ের হাওলাদারসহ অনেকেই।
এ সময় বক্তারা বলেন, রাজীব হাওলাদার বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি শিশু হত্যা মামলায় ফাঁসির রায় ঘোষণা করিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। নির্দোষ হয়েও মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে বাড়িছাড়া হতে হয়েছে রাজিবকে। এ সময় ওই প্রহসনের রায় দ্রুত বাতিল করে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া জামে মসজিদে আরবি পড়তে বের হয় পাঁচ বছরের শিশু আদুরী। পরে নিখোঁজ হয় সে। এ ঘটনায় আদুরীর বাবা টুকু সরদার ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো চারজনকে আসামি করে রাজৈর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর মাদারীপুর সিআইডি পরিদর্শক সাইদ হাসান হাফিজ চারজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন। দোষ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস দেয়া হয় অপর এক আসামিকে। এদিকে রায়ের সময় আদালতে রিমন হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পশ্চিম স্বরমঙ্গল এলাকার রফিক হাওলাদারের ছেলে রাজীব হাওলাদার (২৫), একই উপজেলার কোদালিয়া বাজিতপুরের মুহিত গাছীর ছেলে রিমন হোসাইন (২৫) ও পিরোজপুর জেলার ভৈরমপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা (২৫)। খালাস পাওয়া আসামি হলেন— বাগেরহাটের জেলার লাউপালা এলাকার সাহাজউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে সেলিম হাওলাদার (৩৫)।



