রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিএনপির হামলায় আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বাবা ও ছেলেকে দেখতে যান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এবং রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে দলটির মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পরে আহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ড. ওবায়দুল্লাহ্, তানোর উপজেলা জামায়তের আমির মাওলানা মো: আলমগীর হোসেন, সেক্রেটারি ডি এম আক্কাছ আলী প্রমুখ।
এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক ও সেক্রেটারি মো: গোলাম মুর্তজা। নেতৃদ্বয় এ ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতা ও তার অনুসারীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বাবা মফিজ উদ্দিন (৬২) ও ছেলে মাসিকুল ইসলাম (২৩) গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় আহত জামায়াতের সমর্থক মাসিকুল ইসলাম বাদি হয়ে শুক্রবার তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন মাসিকুল ইসলাম ও তার বাবা )। তাদের বাড়ি উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে।
এ অবস্থায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে গোদাগাড়ীতে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভাস্থলে যাবার প্রস্তুতিকালে রাস্তার পাশে উপস্থিত হন মাসিকুল ইসলাম। এসময় একই গ্রামের একই ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাতেম আলী (৩৮) ও তার সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতে মাসিকুলকে নিষেধ করেন। এক পর্যায়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন সাফিউল ইসলাম।
খবর পেয়ে মাসিকুলের বাবা তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও কোদালের হাতল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
এসময় গ্রামবাসী আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ শহীদুজ্জামান এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



