নাহিদ ইসলাম

দেশের মানুষ নতুন কোনো জালিমের আবির্ভাব দেখতে চায় না

‘দিল্লীর তাবেদারি যারা করে এসেছে, নতুন করে যারা দিল্লীর তাবেদারি করতে চায়, তাদের রাজনীতি আর বাংলাদেশে কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না। আমরা জীবন দিয়েছি আবারো জীবন দেবো, তবুও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব ইনশাআল্লাহ।’

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar ,Savar
বক্তব্য রাখছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
বক্তব্য রাখছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম |নয়া দিগন্ত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্টের পর নতুন কোনো জালিমের আবির্ভাব দেখতে চায় না। আমরা দেখেছি ৫ আগস্টের পর নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে, জমি দখল শুরু হয়েছে, মানুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে। যারা মানুষকে পাথর মেরে হত্যা করছে তারাই নতুন জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জালিমদের পরাজিত করার দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঋণ খেলাপিদের পরাজিত করার দিন। আগামীতে যদি ঋণ খেলাপিরা, জালিমরা ও ভূমিদস্যুরা এবং বিদেশী নাগরিকত্ব রয়েছে এমন ব্যক্তিরা সংসদে যান তাহলে এদেশের কোনো পরিবর্তন হবে না। শুধু একটা দলের পরিবর্তে আরেকটা দল প্রতিস্থাপিত হবে।’

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পৌর এলাকার মাতৃবাগান মাঠে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপির মনোনীত প্রার্থী দিলশানা পারুলের পক্ষে এক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এজন্য জীবন দেন নাই, রক্ত দেন নাই, গণঅভ্যুত্থান করেন নাই। তাই এবারের নির্বাচন পরিবর্তনের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন। ১১ দলের ঐক্য হলো পরিবর্তনের প্রতীক, সংস্কারের প্রতীক।’

তিনি বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা আর শাপলা কলি হলো সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রতীক। ১১ দলের পক্ষে সারাদেশে জোয়ার উঠেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাকা, দিল্লী থেকে নয়। আর এদেশের জনগণই হলো সব। দেশের জন্য এক হাজার মানুষের জীবনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচন দিতে পেরেছি।’

এ সময় তিনি ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে আমরা বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করব এবং ইনসাফের সমাজ কায়েম করব।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দিল্লীর তাবেদারি যারা করে এসেছে, নতুন করে যারা দিল্লীর তাবেদারি করতে চায়, তাদের রাজনীতি আর বাংলাদেশে কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না। আমরা জীবন দিয়েছি আবারো জীবন দেবো, তবুও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার করতে না পারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা। অনেক জায়গায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, মা-বোনদের আক্রমণ করছে, হেনস্ত করছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি দলের নেতা দেশে এসে বললেন, তাদের একটি প্ল্যান আছে, ক্ষমতায় এসে তিনি পরিবর্তন করবেন বলে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু দেশের কোথায় চিনিকল আছে আর কোথায় নাই, কোথায় ইপিজেড আছে আর কোথায় নাই, সয়াবিন চাষ হয় কোথায় আর ভুট্টা চাষ হয় কোথায় তা উনি কিছুই যানেন না। যার দেশ সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, ১৬-১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, তার দেশ সম্পর্কে কতটুকু ধারণা তা মানুষ বুঝে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন কোনো প্ল্যান আমরা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করতে দেবো না ইনশাল্লাহ। আমরা আর কোনো প্রতারক, আর কোনো বেইমানদের কাছে বাংলাদেশের ক্ষমতা দিতে চাই নাই।’

নির্বাচনী জনসভায় তিনি ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) ও ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের প্রার্থীকে শাপলা কলি প্রতীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘যে রাজনীত বাংলাদেশের না, আমরা তা করি না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আর শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এ বাংলাদেশেই হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাভার থানার সমন্বয়ক জুলকান নাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলার আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, ঢাকা জেলা সেক্রেটারি ও দলের নির্দেশে ঢাকা-১৯ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো: আফজাল হোসাইন, ঢাকা জেলার রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহবুব মাস্টার, জেলা আইনবিষয়ক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো: শহিদুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাভার পৌর আমির মো: আজিজুর রহমান প্রমুখ। ’

নির্বাচনী জনসভা সকাল ১০টায় শুরু হলেও তার আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নির্বাচনী জনসভা শেষ হয়। এ সময় ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।