ডিভোর্সের পর তিন মাসের কন্যাশিশুর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি গর্ভধারিণী মায়ের

ময়মনসিংহের একটি আদালতে ডিভোর্সের মামলায় হাজির হয়ে তিন মাসের কন্যাশিশুর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন গর্ভধারিণী এক মা।

ময়মনসিংহ অফিস
ডিভোর্সের পর তিন মাসের কন্যাশিশুর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি গর্ভধারিণী মায়ের
ডিভোর্সের পর তিন মাসের কন্যাশিশুর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি গর্ভধারিণী মায়ের |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের একটি আদালতে ডিভোর্সের মামলায় হাজির হয়ে তিন মাসের কন্যাশিশুর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন গর্ভধারিণী এক মা।

বিচারকের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ‘এই বাচ্চা আমি চাই না, আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে’। গর্ভধারিণী মায়ের এমন বক্তব্য শুনে হতবাক বিচারকসহ আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীগণ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারকের দেয়া পোস্ট করা একটি ভিডিও ভাইরাল হলে দেশব্যাপী বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের জেলা লিগ্যাল এইড আদালতে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর এ ঘটনা ঘটে। বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতির প্রথম সন্তানের বয়স চার বছর। বিচ্ছেদের পর ৯০ দিনের কন্যা সন্তানকে ভরণপোষণসহ স্ত্রীর হেফাজতে রাখতে বলা হলে নবজাতক কন্যাশিশুকে নিজের কাছে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে সেই গর্ভধারিণী মা বিচারকের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘যে সংসারে আমি নাই, সেই বাচ্চা নিয়া আমি কী করমু? এইডা আমারে বুঝাইয়া কন।’

তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের একটা ভবিষ্যৎ আছে। এই বাচ্চা নিলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে।’ বিচারক তাকে দুই বছর ভরণপোষনসহ লালন পালন করতে বললে গর্ভধারিণী মা সাফ জানিয়ে দেন, ‘দুই মাসও রাখতে পারব না’। তিনি নিজের জীবন গড়তে চান, নতুন করে শুরু করতে চান সবকিছু।

গর্ভধারিণী মায়ের এমন বক্তব্য শুনে হতবাক হয়ে বিজ্ঞ বিচারক সাইফুল ইসলাম বললেন, ‘শিশুটিকে মা না নিলে ওর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।’

তিনি শিশুটির ভবিষ্যৎ মানবিক বিবেচনা মাতৃত্বের দায়িত্ব নিতে দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে নিজের ভবিষ্যৎ। শেষ পর্যন্ত বিচারক কঠোর অবস্থান নেন এবং শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সন্তানের ভরণপোষণ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়, যা শিশুটির বাবা বিনা আপত্তিতে মেনে নেন। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সিনিয়র সরকারী জজ সাইফুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিচ্ছেদ হয়েছে ৫ হাজার ৬১৭টি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিচ্ছেদ ঘটেছে ৬ হাজার ৩৯০টি।