অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর

জুলাই বিপ্লবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ছাত্রশিবিরের

‘জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে অগ্রগামী ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর |নয়া দিগন্ত

‘জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে অগ্রগামী ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ছাত্রশিবির অন্যায়, অপরাধ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। সাধারণ ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় আগামীতেও এই সংগঠন তার ন্যায়-নিষ্ঠা বজায় রাখবে।’

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সংগঠনের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল সাড়ে ৯টাযর দিকে নগরীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর মোড় থেকে মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শুরু হওয়া র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।’

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: জাহাঙ্গীর বলেন, ‘১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মাত্র ৬ জন তরুণের হাত ধরে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ ৪৯ বছর পর তা বাংলাদেশের অন্যতম এক পরিণত ও আদর্শিক সংগঠনে রূপ নিয়েছে। ছাত্রশিবির এখন অসংখ্য অভিভাবকের স্বপ্নের জায়গা।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ সালে আমরা প্রথম হামলার শিকার হই এবং ১৯৮২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ সাব্বিরসহ চারজন শাহাদাত বরণ করেন। সেই থেকে শুরু করে সবশেষ শহীদ আল-আমিন পর্যন্ত অসংখ্য ভাই জীবন দিয়েছেন। শত জুলুম ও মামলা-হামলা দিয়েও এই কাফেলাকে স্তব্ধ করা যায়নি।’

ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি ইমরান নাজির বিগত সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘২০২৪ সালের ২১ জুলাই যখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন- এই বিপ্লবের সাথে তাদের সম্পর্ক নেই, তখন ছাত্রশিবির প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে খুনি হাসিনাকে বিতাড়িত করতে বুক পেতে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইসলামী ছাত্রশিবিরই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে।’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘বিগত ১৭ বছর চরম জুলুমের মুখেও শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি।’

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত সংগঠনের ২৩৪ জন ভাই শহীদ হয়েছেন। আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলাম, ন্যায় এবং ইনসাফের বাংলাদেশ।’

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ছাত্রশিবিরের সততা ও নৈতিকতার কারণে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আগামীতে যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদ (ডাকসু, রাকসু ইত্যাদি) নির্বাচন হবে, সেখানে ছাত্রশিবির বিপুল বিজয় অর্জন করবে বলে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

র‍্যালিতে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- মহানগর শিবিরের অফিস সম্পাদক ডা: সাখওয়াত হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক নাজির হোসেন সুপ্ত, রাজশাহী কলেজ শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।