জামায়াত আমির সিলেট আসছেন শনিবার

সিলেটের ভোটাররা মনে করছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা: শফিকুর রহমান। বাংলাদেশের ইতিহাসে সিলেটি প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার উচ্ছ্বাস, উৎসাহ বিরাজ করছে সিলেটজুড়ে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান |ফাইল ছবি

নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে আগামীকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। ওইদিন বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সিলেটের এই কৃতী সন্তান।

সিলেট মহানগর এলাকা ডা: শফিকুর রহমানের চার দশকের স্মৃতি বিজড়িত। এখানেই তার ছাত্র রাজনীতি ও গণরাজনীতির হাতেখড়ি। তিনি ১৯৮১ সালে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস হিসেবে লড়েছেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি ছিলেন আশির দশকে।

জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশক। সিলেটের বিভাগ আন্দোলন, শাবিপ্রবির নামকরণ বিরোধী আন্দোলন, টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলন ও লংমার্চে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এখন সিলেটবাসীর মুখে মুখে ডা: শফিকুর রহমানের সংগ্রামমুখর জীবনের নানা গল্প।

সিলেটের প্রবীণ সাংবাদিক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর নয়া দিগন্তকে জানান, ডা: শফিক ভাই বরাবরই লড়াইয়ের মধ্যে বেঁচে আছেন। সিলেটের সকল আন্দোলনে তার সংশ্লিষ্টতা সামনের সারিতে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা গেলে তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটের মানুষের মুখে মুখে এখন ফিরছে তার নাম। সিলেটবাসী তাকে নতুন বাংলাদেশের অন্যতম নির্মাতা মনে করেন।

সিলেটের দৈনিক প্রভাতবেলার সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল নয়া দিগন্তকে জানান, সিলেটের ভোটাররা মনে করছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা: শফিকুর রহমান। বাংলাদেশের ইতিহাসে সিলেটি প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার উচ্ছ্বাস, উৎসাহ বিরাজ করছে সিলেটজুড়ে।

সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত জানিয়েছে, হবিগঞ্জ ও কুলাউড়ার জনসভা শেষে জোহরের নামাজের পর হেলিকপ্টারযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান। সিলেটের জনসভায় সিলেট-সুনামগঞ্জের ১১ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন তিনি। জনসভায় সিলেটের ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

এদিকে আগামীর ডা: শফিকুর রহমানের আগমনে সিলেটজুড়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস, আনন্দ বিরাজ করছে। জামায়াত আমিরকে স্বাগত জানিয়ে নগরের মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে ব্যানার ফেস্টুন। ‘দাদু ইজ কামিং, আওয়ার নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার ইনশাআল্লাহ’ এমন অনেক ব্যানারের দেখা মিলেছে নগরের অনেক মোড়ে। জনসভাকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জামায়াত।

ইতোমধ্যে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভার মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পুরো মাঠ বালু ও পানি দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে অগ্রগতি দেখতে আলিয়া মাদরাসা মাঠ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর আমির মাওলানা এমরান আলম ও খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগরের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রস্তুতি দেখতে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠ পরিদর্শন করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। এ সময় তার সাথে এসএমপি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। সিলেটের সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটের ঐতিহাসিক আলীয়া মাদরাসা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও স্মরণীয় হবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারির জনসভায় এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ উপস্থিতি হবে।

জনসভাকে সফল করতে গণমাধ্যমসহ সিলেটবাসীর সহযোগিতা কামনা করে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সমাবেশকে শান্তিপূর্ণ করতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থা সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে আমরা বৈঠক করেছি। সব সংস্থা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

জানা গেছে, জনসভায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে।