খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছরে খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জড়িত ছিল না। পাহাড়ি ও বাঙালির ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় করতেই আমরা সব সময় কাজ করেছি।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য চাল ও গম মিলিয়ে ৮৫ কেজি রেশন বরাদ্দ ছিল। বর্তমানে তা কমে ৬০ কেজিতে নেমে এসেছে।’
বাকি ২৫ কেজির কোনো হদিস নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর পেছনে কারা জড়িত, তা সবাই জানে।’ তিনি নির্বাচিত হলে রেশন ব্যবস্থায় এক কেজিও এদিক-সেদিক হতে দেয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন।
জামায়াতে ইসলামীর খাগড়াছড়ি জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ মো: আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।
মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’ চাকমা, মারমা, বাঙালি, হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী জুলাইয়ের পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘বেকার ভাতা কখনোই সমাধান নয়। আমরা ক্ষমতায় এলে বেকারদের হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করব এবং টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন দেশের মানুষকে অবিচার ও শোষণ থেকে মুক্ত করার নির্বাচন।’
জনসভায় আরো বক্তব্য দেন ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা ঐক্য ফেডারেশনের প্রতিনিধি বাবু চন্দ্র নাথ ত্রিপুরা, অ্যাডভোকেট দীপন চাকমা ও বাবু চিংহোয়াই মারমা। এছাড়া বক্তব্য দেন এবি পার্টির খাগড়াছড়ি শাখার আহ্বায়ক ফারজানা আলম, বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি আব্দুস সাত্তার, জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ নুরুল আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিয়াজি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বান্দরবান শাখার আমির এ এস এম আব্দুস সালাম আজাদ ও রাঙ্গামাটি শাখার আমির আব্দুল আলীম।
বক্তারা খাগড়াছড়ির উন্নয়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ সময় দেড়শ জন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।



