ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মার্কেটসহ পাশের ১০টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক দুই কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাজারের একটি লেপ-তোশকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মার্কেটেসহ আশপাশের দোকানগুলোতে বেচাকেনা চলছিল। বিকেল পৌনে ৪টায় মার্কেটের পূর্বদিক থেকে হঠাৎ ধূয়ায় কুণ্ডলী ধেয়ে আসে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে দিকে। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই ধূয়ায় আছন্ন হয়ে পড়ে পুরো মার্কেট এলাকা। দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনসহ আশেপাশের অন্তত ১০টি দোকান পুড়ে যায়। এরমধ্যে পাঁচটি দোকানসহ মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাকিগুলোতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর, নান্দাইলসহ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরাও কাজ করেন। স্থানীয় মানুষজনও পানি সরবরাহ ও মালামাল সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের দু’পাশে অন্তত দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ‘চলন’ নামে একটি কসমেটিকস দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পাশাপাশি তিনটি লেপতোশকের দোকান ও একটি খাবার হোটেলের মালপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও একটি কুরিয়ার সার্ভিস, ফর্মেসি, ফ্লেক্সিলোডের দোকানসহ আরো পাঁচটি দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে।
কসমেটিকস দোকান ‘চলন’র মালিক মোশাররফ হোসেন ফারুক বলেন, ‘আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমার।’
পুড়ে যাওয়া অপর একটি মার্কেটের মালিক লুৎফুল কবীর লিন্টু মিয়া বলেন, ‘২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমার। তবে আমার মার্কেটে তিনটি লেপতোশকের দোকান ছিল ওগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলতে পারছি না।’
লেপতোশক ও কাপড়ের দোকানের একজন মালিক মো: শামসু মিয়া বলেন, ‘আমার অন্তত ২৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।’
ঈশ্বরগঞ্জ পৌরবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ কে এম হারুন অর রশিদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে পৌর বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের পাশে বাজার ব্যবসায়ী সমিতি দাঁড়াবে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আপাতত বলা যাচ্ছে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সহযোগিতা করা হবে।’



