আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট ফাইনালকে কেন্দ্র করে শাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ, আহত ২৫

‘প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যসহ আমাদের চারজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। শিক্ষকরা এভাবে লাঞ্ছিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা ছাত্রসুলভ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি
ক্রিকেট খেলা ঘিরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
ক্রিকেট খেলা ঘিরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ |নয়া দিগন্ত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর ও দুই শিক্ষকসহ উভয় বিভাগের অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বাংলা ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলা ও লোকপ্রশাসন বিভাগ। মাঠের উত্তর পাশে বাংলা বিভাগ ও দক্ষিণ পাশে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন। খেলার একপর্যায়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের এক ফিল্ডারকে ‘স্লেজিং’ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীরা একে অপরকে লক্ষ্য করে লাঠি, চেয়ার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় উপস্থিত সহকারী প্রক্টর ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক ও ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম আহত হন। এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আশরাফ সিদ্দিকী ও প্রভাষক আবদুল বাসিতসহ উভয় বিভাগের অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের সিলেট নগরীর মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে এবং অন্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান মিল্কি, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো: রাহুল ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জশমন্ত মল্লিকসহ অন্তত ১০ জন।

লোকপ্রশাসন বিভাগের আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজ আলম মিঠুন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদওয়ান করিম, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সুমন হোসেন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজ আলম, ফারদিন ইসলাম সীমান্ত ও সাজিদ আবরার, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক মিলনসহ অন্তত ১১ জন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনায় ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার করা হবে এবং আহতদের চিকিৎসায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও শিক্ষকদের আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যসহ আমাদের চারজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। শিক্ষকরা এভাবে লাঞ্ছিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা ছাত্রসুলভ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’