সমাবেশে আসার পথে দুর্ঘটনায় দাকোপ উপজেলা আমির নিহত

নিহত মাওলানা আবু সাঈদ চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদরাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী ও চার মেয়ে রয়েছে।

হারুন আনসারী, ফরিদপুর
মাওলানা আবু সাঈদ
মাওলানা আবু সাঈদ |সংগৃহীত

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়ে রয়্যাল পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় দাকোপ উপজেলা আমির মাওলানা আবু সাঈদ (৫২) নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন জামায়াতকর্মী আনিসুর রহমান ও ইকবাল হোসেন। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

প্রথ্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৯ জুলাই) রাত পৌণে ৩টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা চৌরাস্তা মোড়ে গাড়ি পার্কিং করে চা খাচ্ছিলেন সবাই। এ সময় দাকোপ উপজেলা আমির মাওলানা আবু সাঈদ দেখতে পান তার গাড়ির ব্যানারটি খুলে গেছে। ঠিক করার জন্য তিনি নিজেসহ কয়েকজন কাজ করছিলেন। এ সময় পিছন দিক থেকে আসা রয়্যাল পরিবহনের একটি বাস তাদের ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলে মাওলানা আবু সাঈদ নিহত হন।

মাওলানা আবু সাঈদ চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদরাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী ও চার মেয়ে রয়েছে। এবার তার বড় মেয়ে জুই খাতুনের বিয়ে হয়ে গেছে, মেঝ মেয়ে তাহেরা খাতুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে, সেঝো মেয়ে হুমায়রা খাতুন এ বছর চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে আর ছোট মেয়ে যুথী অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

আহত আনিসুর রহমান চালনা মোহাম্মদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। মাওলানা আবু সাঈদের কফিন দাকোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, রাত ৩টার দিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া ২/৩ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।