বিমান দুর্ঘটনার আগাম বার্তার দাবি করা হ্যাকার গ্রুপের পেইজ গায়েব

সাইবার ৭১ লিখেছে, বাংলাদেশ নিয়ে গালগল্প ছড়াতে জানতো, কিন্তু নিজের পেইজ রিমুভ হবে এই ভবিষ্যৎবাণীটা করতে পারল না!

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হঠাৎ করেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ‘অ্যাননিমাস’ গ্রুপের পেইজ
হঠাৎ করেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ‘অ্যাননিমাস’ গ্রুপের পেইজ |সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আগাম পূর্বাভাস দেয়ার দাবি করে আলোচনায় আসা আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ ‘অ্যাননিমাস মেইন পেইজ’ ফেসবুকে পেইজটি হঠাৎ করেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কে বা কারা এটি বন্ধ করেছে- তা জানা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশী সাইবার গ্রুপ ‘সাইবার ৭১’।

সাইবার ৭১ লিখেছে, বাংলাদেশ নিয়ে গালগল্প ছড়াতে জানতো, কিন্তু নিজের পেইজ রিমুভ হবে এই ভবিষ্যৎবাণীটা করতে পারল না!

গত সোমবারে বিমান দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ‘অ্যাননিমাস মেইন পেইজ’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ নাকি আগেই এ দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। বিষয়টি ঘিরে শুরু হয় চাঞ্চল্য।

দুর্ঘটনার আগের দিন গ্রুপটি ফেসবুকে পোস্ট দেয়, ‘একটি বিদ্যালয়ের বিল্ডিং ধ্বসে পড়বে, অনেক শিশুর প্রাণহানি ঘটবে। এমনটা ঘটবে বিদ্যালয়ের বিল্ডিংয়ের দূর্বল রক্ষণাবেক্ষনের কারণে।’

পরদিন উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজের প্রাইমেরি ভবনে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরেই অনেকে দাবি করতে শুরু করেন, হয়তো এই ঘটনার সাথে স্ট্যাটাসের কোনো যোগসাজেশ রয়েছে। তবে পোস্টটিতে বাংলাদেশ, ঢাকা, বা মাইলস্টোন স্কুলের নাম কোথাও সরাসরি উল্লেখ ছিল না। এমনকি ঘটনাটি কোথায় ঘটবে, তাও নির্দিষ্ট করা হয়নি।

ওই একই পেজ থেকে বিমান দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই অপর এক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, তারা আগেই সতর্ক করেছিল। একদিন আগেই এমন কিছু ঘটবে, সেটার আগাম বার্তা দিয়েছিল।

সোমবার সন্ধ্যায় ওই একই পেজ থেকে আরো একটি স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বোমা বিস্ফোরিত হবে। এটি হতে পারে কোনো হোটেল কিংবা হাসপাতালে।

মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুলস্থুল শুরু হয়। অনেকেই তাদের সেই পোস্ট শেয়ার করে এক ধরনে আতঙ্ক-উদ্বিগ্নের কথাও প্রকাশ করেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হ্যাকারদের মাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা নতুন নয়। তবে এমন বার্তার প্রকৃত উৎস, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, পেইজটি পরিচালিত হচ্ছে নাইজেরিয়া, হাওয়াই ও একটি অজানা দেশ থেকে, যাদের মূল লক্ষ্য অনলাইন জুয়ার প্রচার ও ব্যবহারকারীদের ক্লিকের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন। পেইজটি সাধারণত ভবিষ্যদ্বাণীর ধাঁচের স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করে তোলে। এরপর তাদের বিভিন্ন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ডাইরেক্ট করে, বা সন্দেহজনক লিংকে নিয়ে যায়।

যেখানে ভবিষ্যদ্বাণীর ছলে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ফলো করানো হয়, শেয়ার করানো হয়, এবং শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।