চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরামের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেইসাথে এ অনুষ্ঠানে দু’জন নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর কাঁটাবনে অবস্থিত জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি) অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত চবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান সদস্য এবং চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি চবিয়ানদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
চবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো: তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জি এম ফারুক স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সাবেক ভিপি ও চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চবি সাবেক ছাত্রদল ফোরামের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা ও সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী যথাক্রমে খাগড়াছড়ি ও নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানে ফোরামের পক্ষ থেকে এ দুই এমপিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এ সময় আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা এমপিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি এস এম ফজলুল হক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এমপিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান ও ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম ফজলুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমরা সবাই ঋণী। আমরা অনেকেই মাত্র ১২ টাকা টিউশন ফি দিয়ে চবিতে পড়ালেখা করেছি। চবি সাবেক ছাত্রদল ফোরামের যে দু’জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তারা জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছি।
ফোরামের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা এমপি তার বক্তব্যে চবি সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরামের সফলতা কামনা করেন।
সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হেলালী বলেন, মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমান তার জীবনে যে সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত ছিলেন তা তিনি পুরোপুরি পাননি। আমি মনে করি, তার সুযোগ্য সন্তান সাঈদ আল নোমান এমপি বাবার আদর্শকে ধারণ করে গণমানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, আমার বাবা মরহুম আব্দুল্লাহ আল নোমানের ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী, আমার এলাকাবাসী এবং চবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের সহায়তায় আমি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। আমি সারাজীবন চবি ছাত্রদল ফোরামের সাথে থাকতে চাই।
অনুষ্ঠানে চবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ বখতিয়ার, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিক, জহিরুল ইসলাম বাবুল, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, এ কে এম আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, এম আর খান আরমান, তানভীর ইয়াসিন সোহেল, মোহাম্মদ সেলিম, আতিকুল ইসলাম বিপু, এম আর চৌধুরী মিল্টন, এম রাশেদুল হক, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন পলাশ, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম, কুদ্দুস মজুমদার, কে আলম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন, অধ্যাপক ড. মো: শাহাদাত হোসেন, জয়নাল আবেদীন, কায়েদে আজম চৌধুরী, বেগম নাসরিন, ভিক্টোরিয়া আক্তার, কানিজ ফাতেমা লিমা, খায়রুনেছা খানম হ্যাপি, মো: আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ হানিফ ও নূরুল হুদা সোহেল বক্তব্য রাখেন।
ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। ইফতার শেষে ফোরামের সদস্যরা অতীতের নানা মুহূর্তের স্মৃতিচারণ ও আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠেন। এ সময় প্রায় সবার আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ক্যাম্পাস জীবনের নানা স্মৃতি।



