অমর একুশে বইমেলার ১৬তম দিনে আজ শুক্রবার নতুন বই এসেছে ২৭৭টি।
সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলেছে।
মেলায় ছিল শিশুপ্রহর :
আজ মেলার শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো: সেলিম রেজা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : বদরুদ্দীন উমর শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিরোজ আহমেদ।
এতে আলোচনায় অংশ নেন সুমন রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, বদরুদ্দীন উমরের প্রধান পরিচয় তিনি একজন রাজনীতিবিদ, একজন বিপ্লবী তাত্ত্বিক। রাজনৈতিক বিপ্লব ছিল যার জীবনের উদ্দিষ্ট।
অন্যদিকে, তিনি একজন সমাজ বিশ্লেষক, বুদ্ধিজীবী। উনিশ শতক নিয়ে তার প্রবল আগ্রহ ছিল, কারণ তিনি উনিশ শতকেই গড়ে ওঠা এখানকার মধ্যবিত্তের সঙ্কটকে সূত্রপাতের সময়টি দিয়েও বুঝতে চেয়েছেন। দেশভাগ নিয়ে তার আগ্রহ ছিল, কারণ আরো অনেক কিছুর সাথে তা পরবর্তীকালের রাজনৈতিক গতিপথকে বহুভাবে প্রভাবিত করেছে। কৃষক ও কৃষি নিয়ে বদরুদ্দীন উমর বিপুল পরিমাণে লিখেছেন, কারণ এই দেশে সমাজ-রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে তিনি ভূমি সংস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন।
তিনি আরো বলেন, এই সবগুলো বিষয়েই বদরুদ্দীন উমরের লেখালেখি বেশ জনপ্রিয় এবং এখনো পাঠকপ্রিয়। তার রাজনীতির সাথেও এই রচনাগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সুমন রহমান বলেন, বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশে মার্কসবাদের রূপ এবং যুদ্ধপূর্ব ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করেছেন। পুঁজিবাদের ঐতিহাসিক সমস্যাটি তিনি সুচারুরূপে চিহ্নিত করেছিলেন। তিনি গণ-অভ্যুত্থানের ধারণাকে যেমন সমর্থন জানিয়েছেন, তেমনি অভ্যুত্থানকে বিপ্লবের পৌঁছানোর একটি পথ বলে মনে করেছেন। চিন্তার ব্যাপ্তি ও তাত্ত্বিক ধারণাসমূহের জন্য তিনি নিঃসন্দেহে দীর্ঘকাল প্রাসঙ্গিক থাকবেন।
মোহাম্মদ আজম বলেন, বদরুদ্দীন উমরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো, তিনি একজন একাডেমিক বুদ্ধিজীবী। তিনি জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব চাইতেন, গণঅভ্যুত্থান চাইতেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আকাঙ্ক্ষাটি ছিল একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পরিগঠিত হওয়া, আর এজন্য তিনি অনবরত সমসাময়িক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে গেছেন এবং জনগণের মধ্যে সেই আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন নাসির আলী মামুন এবং মোহন রায়হান।
বিকেল ৪টায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আগামীকাল ১৪ মার্চ শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবর্ষ : মুসলিম সাহিত্য সমাজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেবেন মমতাজ জাহান। সভাপতিত্ব করবেন আবুল আহসান চৌধুরী। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাসস



