তাইরান আয়োজিত ‘নজরুলের রাষ্ট্রচিন্তা : সেকাল-একাল’ তর্ক ও তত্ত্ব আলোচনা বিষয়ক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্ণারে এই সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।
কবি ও সম্পাদক মুজতাহিদ ফারুকীর সভাপতিত্বে এবং লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে গবেষক ও সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরে নজরুল চিন্তা ও চর্চার বাস্তবায়ন আবশ্যক করে তুলতে হবে।’
উল্লিখিত বিষয়ে প্রবন্ধপাঠ করেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম।
পঠিত প্রবন্ধের ওপর প্রশ্ন উত্থান করেন লেখক খন্দকার জিল্লুর রহমান।
প্রবন্ধের ওপর নির্দিষ্ট আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সব্যসাচী লেখক, গবেষক এবং শিক্ষাবীদ আশরাফ আল দ্বীন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ডিন, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আফজাল হোসেন, কবি ও সম্পাদক আফসার নিজাম, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক, লেখক সাজিয়া শারমিন।
বক্তব্যে আশরাফ আল দ্বীন বলেন, ‘নজরুল চর্চা ও চিন্তাকে একশ্রেণির মানুষ ট্যাগিং-এর মাধ্যমে সমাজ থেকে অপাংক্তেয় করে তুলতে চায়। আর এটিই হচ্ছে এদেশে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অন্যতম ধাপ।’
সৈয়দ আফজাল হোসেন বলেন, ‘আজাদি শব্দটি সাম্যবাদী নজরুলের এমন এক অমোঘ উচ্চারণ—যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সার্বিক মুক্তি নির্দেশ করে।’
কবি আফসার নিজাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘নজরুলকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে তাকে নিয়ে ব্যাপকাকারে চর্চার বিকল্প নেই।’
বক্তব্যে সাজিয়া শারমিন বলেন, ’পাঠ্যপুস্তকে নজরুলকে গৌণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতির জন্য তার চর্চা পাঠ্যবইয়ে আবশ্যক করে তুলতে হবে।’
ধন্যবাদজ্ঞাপনে তাইরান সম্পাদক—কবি তাসনীম মাহমুদ বলেন, ‘তৎকালীন মুসলিম নেতৃত্ব নজরুলের চিন্তাকে ধারণ করতে পারেননি। বরং তাকে কাফের ফতোয়া দিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছেন। শুধু তাই নয়—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট কবির সাম্যবাদী আন্দোলনের অন্তরায় হয়ে ওঠে।’
সভাপতির বক্তব্যে কবি ও সম্পাদক মুজতাহিদ ফারুকী বলেন, ‘আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা জরুরি।’
অনুষ্ঠানে নজরুল নিবেদিত স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি জাফর পাঠান, খান কাওসার কবির।
নজরুলের কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন জাতীয় পর্যায়ের আবৃত্তি শিল্পী কামাল মীনা ও মরিয়াম রহমান।
এসময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কবি সালেহ মাহমুদ, নজরুল গবেষক লোকমান হোসেন জীবন, লেখক ও সম্পাদক সীমান্ত আকরাম, কবি কবির ভূইয়া, কবি নুরুল হক, কবি রবিউল খন্দকার, লেখক হিজারুল ইসলাম, কবি মমিন রহমান, লেখক আম্মার তাকিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।



