বাসস
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা, অধিকার ও সামাজিক মুক্তির প্রকৃত অগ্রদূত।
তিনি বলেন, ‘শেরে বাংলার হাত ধরেই এই অঞ্চলের কৃষকরা জমিদারের শোষণ ও ঋণের জাল থেকে মুক্তি পেয়েছিল।’ শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ‘শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী তার পারিবারিক স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘শেরে বাংলার নামের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমার গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। আমার দাদা উত্তর বরিশাল কৃষক প্রজা পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও শেরে বাংলার ঘনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন। শৈশব থেকেই দাদার মুখে শেরে বাংলার বীরত্ব ও সমাজ সংস্কারের গল্প শুনেই আমার রাজনৈতিক কর্মী হওয়ার অনুপ্রেরণা জেগেছিল।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শেরে বাংলা বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখেন। তার ঐতিহাসিক ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের ফলেই এ দেশের শোষিত কৃষকরা ঋণের ফাঁস থেকে মুক্ত হয়েছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পথ সুগম হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, শেরে বাংলার মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য বা এজেন্ডা (জমিদারি উচ্ছেদ ও প্রজার মুক্তি) সফল হওয়ার পর প্রথাগত রাজনীতিতে তার উত্তরাধিকারের অবসান ঘটলেও একজন মহান সমাজ সংস্কারক হিসেবে তিনি চিরকাল প্রাসঙ্গিক থাকবেন।
মন্ত্রী এই মহান নেতার কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে শেরে বাংলা ফাউন্ডেশনকে গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রকৌশলী মো: আবু হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক তথ্য সচিব এবং বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো: জিয়াউর রহমান।
অনুষ্ঠানে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলার ২০টি এতিমখানা ও মাদরাসার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তার অর্থ তুলে দেয়া হয়।
রামিসার হত্যাকারীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাজার আওতায় আনবে সরকার
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এই নৃশংস ঘটনায় গোটা জাতি অত্যন্ত বেদনাবিধুর ও স্তম্ভিত। দেশের প্রচলিত আইনে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অপরাধীকে সাজার আওতায় আনার জন্য সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, রামিসাসহ এ পর্যন্ত যেসব শিশু-কিশোর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের সবার প্রতি দেশবাসীর গভীর স্নেহ, মায়া ও মমতা রয়েছে। এসব বর্বরোচিত ঘটনার প্রতি জাতির চেতনা ও সমবেদনা ব্যক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে গিয়ে হাজির হয়েছেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সরকারের কঠোর আইনি উদ্যোগ এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে জনগণের মনে যে ক্ষোভ রয়েছে, সাংবাদিকরা জনমত তৈরির মাধ্যমে তা তুলে ধরছেন। আপনাদের তৈরি এই শক্তিশালী জনমতের ওপর ভর করেই সরকার আগামীতে আরো কঠোর ও কার্যকর আইন তৈরি করতে পারবে, যাতে সমাজ থেকে এই ধরনের শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ চিরতরে নির্মূল করা যায়।’ গ্রামাঞ্চলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা নিবন্ধনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসার আমাদের জন্য ভালো। তবে তা যাতে আমাদের নির্দিষ্ট কারিকুলামের মধ্যে এবং সবকিছুর মধ্যে নিয়মকানুন মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কাজ করছেন।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় মামলা নিতে বিলম্ব প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমি নিজেও দৈনিক পত্রিকায় খবরটি পড়েছি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে এখনো কোনো পরিষ্কার বা আনুষ্ঠানিক তথ্য আসেনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে কথা বলেছেন, বিস্তারিত তথ্য তিনিই বলবেন।’



