নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। গতকাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়ে এতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যাসহ ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। বিশেষ করে যেসব স্থান শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা, সেখানেই তারা সহিংসতার শিকার হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে জানিয়ে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী কার্যকর ব্যবস্থা আরো জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একই সাথে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবার বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, স্কুল, মাদরাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও শিশুযতœ কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে, যাতে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরো বিস্তার লাভ করে। এ কারণে শিশু, নারী, পরিবার, কমিউনিটি ও সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে যেকোনো সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে, যেখানে নির্যাতনের শিকার শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদা ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া নতুন ধরনের মানসিক নির্যাতনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের সম্মান বজায় রাখতে এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে অপরাধীদের দায়মুক্তির অবসান এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতা ও জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।



