গৎবাঁধা কথা নয় নদীজাত সম্পদ ব্যবহারে গবেষণা দরকার : অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

Printed Edition
ফরিদপুরে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ :  নয়া দিগন্ত
ফরিদপুরে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ : নয়া দিগন্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আন্তঃদেশীয় নদীপ্রবাহ এবং পানির ন্যায্যহিস্যা প্রাপ্তিসহ নদীখনন ও পুনঃখনন করে নদীজাত সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহার করার বিষয়ে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নগই) আরো কার্যকর ভূমিকা দরকার ছিল। কিন্তু এখানে এসে যা দেখলাম তার সবই গৎবাঁধা কথাবার্তা। নদী থেকে যেই সম্পদ আমরা পাচ্ছি, সেই সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার কিভাবে করা যায় এ নিয়ে তাদের কোনো গবেষণা দেখলাম না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গৌরব হারিয়েছি। কৃষির উৎপাদনশীলতা কমে গেছে। নগইর নিজ উদ্যোগেই এসব নিয়ে কাজ করা দরকার ছিল। তাদের বের করা দরকার ছিল কোন কোন নদী বা খাল খনন অথবা পুনঃখনন করে আমরা নদীর প্রবাহ বাড়াতে পারব।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুরের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট (নগই) পরিদর্শন শেষে নগই কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেন। নগই কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এই এলাকারই সুযোগ্য সন্তান কেএম ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে এই নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য বিগত দিনে এটি নিয়ে একটি অবহেলা ছিল, এ বিষয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ১৭ ফেব্রুয়ারির পরে আপনাদের মধ্যে একটি উৎসাহের, একটি জাগরণের দরকার ছিল।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে- নদী, খাল এবং পানির যদি পরিপূর্ণ ব্যবহার করা যায় তাহলে দেশে সবুজ বিপ্লব সম্ভব। তিনি বলেন, নগইর একটি বড় সাইড রয়েছে হাইড্রোলজিক্যাল বিভাগ। পানি যেদিকে যায়, পানির সম্পদও সেদিকে যায়। আন্তঃদেশীয় নদীপ্রবাহ নিয়ে আমরা ন্যায্যহিস্যা চাই। যখন আমরা আন্তঃদেশীয় নদীপ্রবাহ সম্পর্কে কোন নেগোসিয়েশন করব, তখন নগইর জন্য একটা বড় সুযোগ ছিল যে, আমাদের প্রয়োজনীয়তা এবং আবশ্যিকতাকে সেখানে উপস্থাপন করা। তিনি বলেন, আজকে সুন্দরবনের উপরের পৃষ্ঠ উপরে উঠে যাচ্ছে। ফলে সেখানে আগুন লাগছে বা চর পড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রচুর চর উঠছে। তাহলে এই চরগুলো আমরা কিভাবে ইউজ করব? কারণ, নদী এবং নদীজাত, সবকিছুইতো নগইর গবেষণার ফ্যাক্টর। নদী থেকে যে সম্পদ তৈরি হচ্ছে, সেই সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার হওয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি জানান, পরিকল্পনা কমিশন দেশের ১৩০০ প্রকল্প নতুন করে রিভিউ করবে।

মতবিনিময় সভায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: সেলিমুজ্জামান সেলিম, ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান পলাশ, মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো: আ্ব্দুস সালাম, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নগইর ডিজি এসএম আবু হুরায়রার সঞ্চালনায় সভায় নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি ডিজিটাল উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়।

এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাখুন্ডায় জোবায়দা করিম জুট মিল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যরা।