নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং ২০০১ সালের সেই বীরদের প্রস্তাবিত খেতাব গেজেট আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ‘আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন’ নামক সংগঠন।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মসূচি থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। ২০০১ সালের এ দিনে কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে বিডিআর সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের স্মৃতি স্মরণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) ড. চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছর পার হলেও প্রকৃত জাতীয় আকাক্সক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বারবার জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে। যে রাজনীতি আমাদের গোলাম বানায়, সেই রাজনীতি ও দল আমাদের প্রয়োজন নেই। এ পরিবর্তন আনার জন্যই মূলত বিপ্লব; কিন্তু আমরা বর্তমানে আবারো ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব দেখতে পাচ্ছি। ৭১ সালে ভারত আমাদের সহায়তার আড়ালে সবকিছু লুটেপুটে খেয়েছে এবং তারা এ দেশে নিজেদের এজেন্ট নিয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই আরেকটি ‘ভারত’ অবস্থান করছে; আমাদের লড়াই মূলত এ ‘ভারতীয় বাংলাদেশীদের’ বিরুদ্ধে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বড়াইবাড়ী দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে। বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অনেকটা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সীমান্তের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হচ্ছে, যা অমানবিক। আমাদের সীমান্তের মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে এবং প্রতিটি সীমান্ত হত্যার বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। যারা দেশ চালায়, তারা ভারতের তাঁবেদারিতে লিপ্ত। এ বছর গঙ্গা ও তিস্তা চুক্তির নবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের কাছে কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।
আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের সদস্যসচিব আলামিন আটিয়া বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, সেনাবাহিনীর পক্ষে কথা বললে বিডিআরের বিপক্ষে যায়, আবার বিডিআরের পক্ষে বললে আর্মির বিপক্ষে যায়। এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দিল্লি থেকে সার্টিফিকেট আনতে হয়।
এ সময় আয়োজকরা সরকারের প্রতি পাঁচদফা দাবি উত্থাপন করে।
১. বড়াইবাড়ী যুদ্ধের বীরদের খেতাব গেজেট আকারে প্রকাশ।
২. বিডিআরের হারানো ঐতিহ্য ও নাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৩. সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি।
৪. বড়াইবাড়ী দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা।
৫. বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বা অন্যায় কারণে চাকরিচ্যুতদের চাকরিতে পুনর্বহাল।



