নিজস্ব প্রতিবেদক
সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকের ব্যবহার ও তামাকজনিত মৃত্যু বাড়বে এবং রাজস্ব আয় কমবে। সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে দাম না বাড়ালে ভোক্তার কম দামি সিগারেট বেছে নেয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। চূড়ান্ত বাজেটে দুই স্তরকে একত্র করে দাম বাড়ালে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি শুধু সিগারেট খাত থেকেই অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় অর্জন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদসহ তামাকবিরোধী নেতারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত তামাক কর বিষয়ক বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত বলেন, নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যে কোনো একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করছে না। এই দুই স্তরকে একত্র করে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা ৪টি থেকে কমিয়ে ৩টি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ সালের চূড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- নিম্ন স্তর এবং মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৯০ টাকা নির্ধারণ করা; উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা; প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা; ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ি খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৫৫ টাকা এবং ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তামাকবিরোধীদের কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে ধূমপান কমার পাশাপাশি ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৯ লাখ তরুণসহ মোট ১৭ লাখের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের। প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ এবং দাবি তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ।



