ইরাকে জাতিসঙ্ঘ মিশনের সমাপ্তি ঘোষণা

Printed Edition

আনাদোলু এজেন্সি

ইরাকে জাতিসঙ্ঘ সহায়তা মিশনের প্রধান মোহাম্মদ আল হাসান জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামনে গত মঙ্গলবার তার শেষ ব্রিফিং প্রদান করেন। ২২ বছরের মেয়াদ শেষে আগামী ৩১ ডিসেম্বর মিশনের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড শেষ হতে চলেছে। আল হাসান এই মুহূর্তকে ইরাকের ‘কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সাফল্যের’ প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।

সেশনের শুরুতেই তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের দীর্ঘ দিনের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিশনকে আতিথেয়তা দেয়ার জন্য ইরাক সরকারের প্রতিও ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি ইরাক ও কুয়েতের সহযোগিতার পুরো কর্মকাণ্ডজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আল হাসান বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ একটি জাতিসঙ্ঘ মিশনের সম্মানজনক সমাপ্তির সাক্ষী হচ্ছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে মিশনটি গঠিত হয়েছিল সেই ইরাক ছিল একনায়কতন্ত্র, যুদ্ধ, বিদেশী দখল এবং আইএসআইএসের (দায়েশ) উত্থানে বিপর্যস্ত’। এ সময় তিনি ২০০৩ সালে বাগদাদের ক্যানাল হোটেলে বোমা হামলায় নিহত ২২ জন জাতিসঙ্ঘ কর্মীর স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

ইরাকের স্থিতিশীলতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং ১৩টি নির্বাচন- এসব মাইলফলক ইরাকের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির সাক্ষ্য বহন করে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মিশনটির কাজের সমাপ্তিকে আরো অর্থবহ করে তুলেছে সেই দৃশ্য, যেখানে নানা পটভূমির ইরাকি নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে সারিবদ্ধ হয়ে ভোট দিচ্ছিলেন।’

তবে অগ্রগতির পরও তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু এখনো অমীমাংসিত। কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুর্দিশ আঞ্চলিক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া এখনো স্থবির হয়ে আছে’। এ সময় তিনি মানবিক সঙ্কটের দিকটিও তুলে ধরেন। বলেন, প্রায় ১০ লাখ ইরাকি এখনো অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে শুধুই সিনজারের এক লাখের বেশি ইয়াজিদি ১১ বছর পরেও আইএসের হাত থেকে পালিয়ে আসার পর শিবিরেই কাটাচ্ছেন।

উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ত্বরান্বিত করার জন্য তিনি ইরাকের নেতৃত্বকে প্রশংসা করেন। চলতি বছর প্রায় ২০ হাজার ৮০০ ইরাকিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং এ বছরের শেষ নাগাদ অন্যদেরও প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় কুয়েতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি দুই দেশকে সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখারও আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিশনের সমাপ্তি মানে জাতিসঙ্ঘ ও ইরাকের অংশীদারত্বের শেষ নয়; বরং এটি নতুন অধ্যায়ের শুরু। এখন থেকে ইরাক নিজ উন্নয়ন অগ্রগতির নেতৃত্ব আরো বেশি নেবে, আর জাতিসঙ্ঘের কান্ট্রি টিম অর্থনীতি, জলবায়ু স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার ও বাস্তুচ্যুতিসংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তা জারি রাখবে।