হাবিবুর রহমান চৌধুরী কুমিল্লা
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি অ্যাগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির পশুর হাটে যোগ হয়েছে বিশাল আকৃতির উট ‘সুলতান’। প্রায় দুই মাস আগে রাজস্থান থেকে আনেন ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ। কোরবানি ঈদ ঘিরে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজস্থানী এই সুলতান। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন উটটি দেখতে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে উৎসাহ ও আগ্রহ। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক দর্শনার্থী ফার্মে ভিড় করছেন মরুভূমির জাহাজ উট দেখতে। ফলে ২০১৭ সালে গড়ে উঠা অ্যাগ্রো ফার্মটি এখন রূপ নিয়েছে চিড়িয়াখানায়।
সরেজমিন দেখা যায়, উটটি ফার্মের বাইরে রাখা হয়েছে। পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করছেন কর্মচারীরা। উচ্চতায় ১০ ফুট ছাড়িয়ে যাবে। এটির উচ্চতা একটি ভবনের প্রথমতলার সমান প্রায়। পরিষ্কারের পর বাঁধা হয় বাড়ির সড়কের ওপরে। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুণ দর্শনার্থীরা ছবি তুলছেন, কেউ কেউ তুলছেন সেলফিও। কেউ ধরে দেখছেন, উটও সেলিব্রেটির মতো চুপচাপ ছবি তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। জানা যায় খামারটিতে শতাধিক বিক্রি যোগ্য দেশী বিদেশী গরু রয়েছে। যার দাম ৮০ হাজার থেকে সাত লাখ ছাড়িয়ে। পরিচর্যাকারী সুমন ইসলাম বলেন, উট বালু ও রোদ পছন্দ করে। প্রথমে আমরা আশঙ্কায় ছিলাম কিভাবে এর পালন করব। কিন্তু দেখলাম উট শান্ত প্রকৃতির। ভুট্টা, গম ও ঘাস খেতে দিই। দৈনিক ৪০ লিটারের মতো পানি খায়। গরুর তুলনায় উট পালন সহজ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উট সাধারণত গরুর মতোই খাবার খায় এবং এর পরিচর্যায়ও কম কষ্ট হয়।
দর্শনার্থী সাইফুল হাসান শুভ, পারভেজ হোসেন অনিক ও রিফাত বলেন, সিনমা নাটকে উট দেখেছি। কুমিল্লায় এর আগে আর উট দেখিনি। আরবের মরুভূমিতে এই উটের বসবাস। আজ উট সামনে থেকে দেখা ও ছুঁয়ে দেখতে পেরে ভালো লাগছে। রাফি অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহাম্মদ বলেন, আমাদের খামারে বৈচিত্র্যপূর্ণ পশু রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে গয়াল, দেশী-বিদেশী প্রজাতির গরু ও মহিষ। এবার আমরা রাজস্থানের উট সংগ্রহ করেছি। উটের ওজন ৯০০ কেজির ওপরে। ৩২ লাখ টাকা দাম চেয়েছি। ক্রেতারা অনেকে দেখে গেছেন। এছাড়া প্রতিদিন লাইন ধরে দর্শনার্থীরা দেখতে আসছেন। খামারে বিক্রি না হলে উটটি নেউরা গরু বাজারে উঠাবো। বালি দিয়ে বড় জায়গা নিয়ে বাংলাদেশেও উটের খামার করা যেতে পারে। কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, গরুসহ বিভিন্ন পশুর চিকিৎসাসেবা আমরা নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি।



