নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে আইনজীবী ঐক্যপরিষদ সবুজ প্যানেল।
গতকাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একতরফা করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আর ১০ জন কমিশনার নিয়ে গঠিত হয়। যেখানে দুই প্যানেলের মধ্য থেকে পাঁচজন করে সদস্য নিয়ে কমিশন গঠন করার বিধান রয়েছে সেখানে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল নিজেদের সাতজন লোক দিয়ে কমিশন গঠন করে নিয়েছে। অপর তিনজনের মধ্যে দুইজন কমিশনার বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত আইনজীবী ঐক্যপরিষদ সবুজ প্যানেল থেকে বলা হয়েছে। যেখানে উভয় প্যানেল আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে কমিশন গঠন করবে সেখানে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের মতো করে কমিশন গঠন করছে। সবুজ প্যানেলকে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়নি। ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করা যায় না। নির্বাচনের ফলাফল কারচুপি ঠেকাতে তিনি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট গণনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অতীতে আওয়ামী লীগ সাদা প্যানেল এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের নীল প্যানেল ছিল। সমিতির নির্বাচনে সব সময় দু’টি প্যানেলে নির্বাচন হয়ে আসছে। এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল এবং বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত আইনজীবী ঐক্যপরিষদ সবুজ প্যানেলে নির্বাচন করছে। নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় যেভাবে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। আমাদের দাবি মেনে বিধি মোতাবেক নির্বাচনের আয়োজন না করা হলে আমাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে হবে।
আইনজীবী ঐক্যপরিষদ সবুজ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি-না। ২০ হাজার সদস্যের ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীল প্যানেল কর্তৃক যে সাতজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে তারা দলীয় পক্ষপাতিত্বের ভূমিকা রাখছেন। ফলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হতে পারে না। তাই তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির নিয়ম অনুযায়ী উভয় প্যানেলের সমানসংখ্যক সদস্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ঐক্যপরিষদ সবুজ প্যানেলের সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী মো: শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি পদপ্রার্থী মো: লুৎফুর রহমান আজাদ, সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো: আবু বাক্কার সিদ্দিক, ট্রেজারার পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসেন, সিনিয়র সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো: শাহীন আখতার, সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো: মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো: শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সেক্রেটারি পদপ্রার্থী বিলকিস আক্তার, অফিস সেক্রেটারি পদপ্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল, ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী বাবুল আখতার বাবু, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্যানেলের সব পদের সদস্য প্রার্থীরা।



