বাঁশখালীতে এক দিকে খাল খনন, অন্য দিকে দখল

Printed Edition
খালের অবৈধ দখল ও জেটি নির্মাণ : নয়া দিগন্ত
খালের অবৈধ দখল ও জেটি নির্মাণ : নয়া দিগন্ত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জলকদর খালের উত্তরাংশে পুনঃখনন কাজ শুরু হলেও দক্ষিণাংশে অব্যাহত রয়েছে দখলদারি। এতে খাল রক্ষার উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও সাধনপুর ইউনিয়নের দুই হাজার ৪০০ মিটার অংশে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩৪ টাকা।

তবে খালের দক্ষিণাংশে শেখেরখীল ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকায় প্রায় ৮০ ফুট প্রশস্ত ও ৫০ ফুট দীর্ঘ অংশ দখল করে একটি জেটি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলম নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী খালের জায়গা দখল করে জেটিটি নির্মাণ করছেন। বর্তমানে সেখানে মাছ ওঠানামার কাজ চলছে। প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে জাহাঙ্গীর আলমকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই তিনি জেটি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান এবং নির্মাণ কাজ শেষ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আরো অনেকে খাল দখল করে স্থাপনা করেছেন। তাদের যেটা হবে, আমারও সেটাই হবে। আমি জাল বুননের জন্য খালি জায়গায় স্থাপনা করেছি।’

৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জলকদর খাল একসময় পশ্চিম বাঁশখালীর যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম ছিল। আশির দশকে মানুষ লঞ্চ ও স্টিমারে এই খালপথে চলাচল করতেন। উত্তরে সাঙ্গু নদী থেকে শুরু হয়ে খালটি দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। এই খালকে কেন্দ্র করে আশি ও নব্বইয়ের দশকে এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনও বেড়ে যায়।

কিন্তু বছরের পর বছর দখল ও ভরাটের কারণে খালটির নাব্যতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় দেড় শ ফুট প্রশস্ত খালের কোনো কোনো অংশ এখন ২০ ফুটেরও নিচে নেমে এসেছে। দক্ষিণাংশের কিছু এলাকায় এখনো লঞ্চ-স্টিমার চলাচলের উপযোগী অংশ থাকলেও সেখানেও নতুন করে দখল শুরু হয়েছে।

এ দিকে খাল খননকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কর্মসূচি হাতে নিলেও একই সময়ে দখল চলতে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, ‘খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, ‘খাল শুধু পাউবোর নয়, এটি খাস জমিও। সে হিসেবে উপজেলা প্রশাসন চাইলে উচ্ছেদ অভিযান বা জরিমানা করতে পারে। তবু আমরা আবারো প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করব।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন বলেন, ‘পাউবোর আবেদনের পর সেখানে তহশিলদার পাঠানো হয়েছিল। তবে জায়গাটি পাউবোর আওতাধীন হওয়ায় উচ্ছেদসংক্রান্ত নথি তৈরি করা যায়নি। বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে।’