অতি: সচিব ও অতি: ডিআইজি দম্পতির সাথে সম্পত্তির বিরোধ

একের পর এক মিথ্যা মামলায় দিশেহারা ব্যবসায়ী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বামী শামিমুজ্জামান সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব। কর্মরত রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরে। আর স্ত্রী জেসমিন বেগম পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি। কর্মরত আছেন নৌ পুলিশে। এই দম্পতির মিথ্যা মামলার ভয়ে মাসের পর মাস পালিয়ে থেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এ এস এম জুলফিকার হায়দার নামের এক ব্যবসায়ী। আর্থিক লেনদেন ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এমন হয়রানি করা হচ্ছে বলে জুলফিকার অভিযোগ করেন। এ দিকে, শামিমুজ্জামান বলছেন, অভিযোগকারী তার আত্মীয়। তার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়।

রেদওয়ান প্যাকেজিং ইন্ডাষ্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলফিকার হায়দার অভিযোগ করেন, ওই দম্পতির সাথে তার এক সময়ে সুসম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে একটি হাউজিং কোম্পানিতে প্লট দেয়ার কথা বলে জুলফিকারের কাছ থেকে তারা ১০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু তাকে প্লট না দিয়ে সেটি নিজেদের নামে নিয়ে নেন। ২০০৭ সালে এই ঘটনা ঘটে। ১৫ বছর ধরে ওই প্লট ফেরত দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ী জুলফিকার। এ ছাড়া রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় শামিমুজ্জামান ২০০৪ সালে একটি ফ্ল্যাট বুকিং দেন। ১/১১ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ওই ফ্ল্যাটটি জুলফিকারের কাছে বিক্রি করেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোনো টাকা ফেরত না দিয়ে ফ্ল্যাটটি আবার নিজ নামে ফিরিয়ে নেন শামিমুজ্জামান।

এসব বিষয়ে জুলফিকার ২০২৪ সালে তৎকালীন আইজিপির কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দম্পতি বাকেরগঞ্জ থানার একটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে জুলফিকারকে। র‌্যাবকে দিয়ে তাকে গ্রেফতার করানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ওই মামলায় তিনি ২৯ দিন কারাবন্দী আরো তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই চারটি মামলার একটিতেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি নন। মামলাগুলোর বাদিরাও লিখিতভাবে বলেছেন, জুলফিকারকে তারা ওইসব মামলায় আসামি করেননি। ওই মামলাগুলোয় তিনি জামিনে রয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে এই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়। পুলিশ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওই মামলার বাদিরই কোনো হদিস নেই। এই মামলায়ও জুলফিকারকে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেছেন ওই দম্পতি। যে কারণে দিনের পর দিন তাকে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।

জুলফিকার অভিযোগ করেন, তার প্লট ও ফ্ল্যাট যাতে ফিরিয়ে দেয়া না লাগে সেজন্যই এভাবে একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছে ওই কর্মকর্তা দম্পতি। এ নিয়ে তিনি আবারো আইজিপি বরাবর একটি অভিযোগ করে প্রতিকারের দাবি করেছেন।

এ দিকে, অভিযোগের ব্যাপারে শামিমুজ্জামান বলেন, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করানো কি সম্ভব? এটার কোনোই সুযোগ নেই। জুলফিকার হায়দার তার আত্মীয়। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে লেনদেন থাকতেই পারে। তার বড় ভাইয়ের সাথে জুলফিকারের ব্যবসা ছিল। তিনি সব আত্মীয়স্বজনের সাথেই এরূপ করে আসছেন। জেসমিন আক্তারের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি সাড়া দেন।