কাল শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা

মঙ্গলবার ইয়াওমুল আরাফা

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মূল্ক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র কাবা চত্বর। বিশ্বের নানা প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছেন পবিত্র মক্কায়। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই হজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সৌদি সময়ানুযায়ী আগামীকাল ৮ জিলহজ (২৫ মে) সোমবার মিনায় অবস্থানের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর ১২ জিলহজ (২৯ মে) শুক্রবার শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনের হজের মূল কার্যক্রম। ১৩ জিলহজ (৩০ মে) বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করার মাধ্যমে হজের সমাপ্তি ঘটবে।

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ পালনের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এবার ১৮০টির বেশি দেশের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালন করবেন। বাংলাদেশ থেকে হজ পালনে ইতোমধ্যে ৭৮ হাজার ৩৯০ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। সোমবার থেকে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। তবে হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় সৌদি মুয়াল্লিমরা আজ রোববার রাতেই হজযাত্রীদের তাঁবুর শহর মিনায় নেয়া শুরু করবেন। এশার নামাজের পর মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরামের কাপড় পরে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন হাজীরা। এ সময় গুঞ্জরিত হবে তালবিয়া-‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারিকা লাক।’

মিনায় পৌঁছে হাজীরা ফজর থেকে শুরু করে এশা অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন নিজ নিজ তাঁবুতে। তবে খায়েফ ও কুয়েতি মসজিদের কাছাকাছি তাঁবু থাকলে মসজিদে গিয়েও নামাজ আদায় করতে পারেন হাজীরা।

মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। এ দিনের নাম ইয়াওমুল আরাফা। ৯ জিলহজ (২৬ মে) মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের পর হাজীদের আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও অনেকে আগামীকাল রাতেই রওনা হবেন। সেখানে আগে পৌঁছে গেলে ফজর এবং জোহর-আসর আদায় করবেন আরাফাতের ময়দানে। এখানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন খতিব। চলতি বছর আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল হুজাইফি। একই সাথে মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন তিনি। তবে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের তাঁবু বেশ খানিকটা দূরে থাকায় তাদের পক্ষে মসজিদে নামিরায় যাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে নিজ নিজ তাঁবুতেই তারা নামাজ আদায় করে নেন। আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের পর হাজীরা মিনায় প্রত্যাবর্তন করবেন। ২৭ মে ১০ জিলহজ সৌদি আরবে ঈদুল আজহা পালিত হবে।

ইসলামের বিধান অনুসারে, ১০ জিলহজ মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ (২৮ ও ২৯ মে) মিনায় অবস্থান করে অবস্থান করে প্রতিদিন শয়তানকে তিনটি করে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজীরা। সবশেষে ১৩ জিলহজ (৩০ মে) কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।